পাইলটের গাফিলতিতে বিমানের ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন
যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে

১ ফেব্রুয়ারী ১২:১৫ মিনিট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন কেনা ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ ধ্রুবতারা বিজি-৬০১ ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের সিডিউল থাকলেও ২ ঘন্টা ১০ মিনিট দেরিতে ২-২৫ মিনিটে যাত্রা করে।
হঠাৎই মধ্য আকাশে কোন কারণ ছাড়াই ফ্লাইটটির ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করেন পাইলট ক্যাপ্টেন রুবাইয়াত। পাইলটের এমন কাণ্ডে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। শঙ্কা ছিল বিমানের ইঞ্জিন জ্বলে যাওয়ার। তবে নিরাপদেই অবতরণ করে ফ্লাইটটি।
কিন্তু কোন পরিপ্রেক্ষিতে পাইলট ৫০ জন যাত্রীর জীবন এমন ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিলেন সে বিষয়ে তিনি বা বিমান কর্তৃপক্ষ এখনো নীরব রয়েছেন।
মূলত বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শেষ পন্থা হিসেবে ব্যবহার হয় ইমার্জেন্সি পাওয়ারের। এভিয়েশনের পরিভাষায় এটি মেটাল-টু-মেটাল থ্রাস্ট নামে পরিচিত।
বিমানের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকরের পরেও বিমানটি নিরাপদে সিলেটে অবতরণ করে। ঝুঁকি নিয়েই ফিরতি ফ্লাইটে সিলেট থেকে ১ শিশুসহ ৪৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে এয়ারক্রাফটি। আর অবতরণের ৯ দিন পরও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি পাইলট রুবাইয়াত।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা জানান, যদি আকাশে কোনো ফ্লাইট জরুরি অবস্থায় পড়ে কিংবা একটি ইঞ্জিন ফেল করে কিংবা এয়ারক্রাফটের সামনে হঠাৎ পাহাড় চলে আসে, তখনই জরুরি ভিত্তিতে পাইলট ইমার্জেন্সি পাওয়ার কার্যকর করেন। বিমানের ধ্রুবতারায় ইমার্জেন্সি পাওয়ার যদি আরও বেশি সময় কার্যকর থাকত, তাহলে আকাশেই এয়ারক্রাফটির পুরো ইঞ্জিন জ্বলে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।
ওই ঘটনার পর এয়ারক্রাফটি বর্তমানে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৬০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
একই সঙ্গে মেরামতের জন্য এক থেকে তিন মাস উড়োজাহাজটি দিয়ে ফ্লাইট করা যাবে না।
এদিকে বিমান কর্তৃপক্ষকে জানানো তো দূরের কথা, এতো বড় ঘটনা নিজের রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে লগ বইয়েও লিপিবদ্ধ করেননি ক্যাপ্টেন রুবাইয়াত।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী বৈমানিককে অবশ্যই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা লগ বইতে লেখার কথা। অনেক পাইলটই তা করেন না। এটা দুঃখজনক। এটা একটা বদভ্যাস, ডিপার্টমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট ফেইলিয়র।
উল্লেখ্য যে, ড্যাশ-৮কিউ ৪০০ মডেলের এ উড়োজাহাজটি গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আনা হয় কানাডার ডি হ্যাভিলেন্ড অ্যারোস্পেস থেকে।
-B










