রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ : বিপর্যয়ে উড়োজাহাজ শিল্প
ইউক্রেনে রাশিয়া যুদ্ধের ফলে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের এয়ারলাইন-শিল্পে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমাদের একের পর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ছে রাশিয়া।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ব্রিটেন রাশিয়ার জাতীয় এয়ারলাইন্স অ্যারোফ্লোটের চলাচল নিষিদ্ধ করে। শুক্রবার আরো দু’টি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ দিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, এটি বিমানের যন্ত্রাংশ রফতানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা এঁটে দেবে।
পোল্যান্ড এবং চেক রিপাবলিকও জানিয়েছে, তারাও রাশিয়ার সাথে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। জাপান এয়ারলাইন্সও বৃহস্পতিবার মস্কোর সাথে তাদের একটি ফ্লাইট বাতিল করে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর কিয়েভ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। বেলারুশও আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করেছে।
ব্রিটেনের পাল্টা জবাবে রাশিয়া তাদের আকাশে দেশটির বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্র্রিটেনের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অবন্ধুসুলভ আচরণের কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মস্কো ও লন্ডনের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে ভার্জিন আটলান্টিক ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিমান চলাচলে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্রিটেন এবং রাশিয়ার মধ্যে মোট ২৪টি ফ্লাইটের শিডিউল ছিল। আর লন্ডন এবং মস্কোর সেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচল করার কথা ছিল অ্যারোফ্লোটের ১৬টি এবং ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের অটটি ফ্লাইট।
জাতিসঙ্ঘের অ্যাভিয়েশন এজেন্সির সাথে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের গভর্নিং কাউন্সিলের শুক্রবার একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
সিরিয়ামের (অর্থ, মহাকাশ, ভ্রমণ, সরকার এবং এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত বিশ্বনেতাদের কাছে ডাটা এবং বিমান চালনা বিশ্লেষণমূলক সমাধান সরবরাহ করে)।
ব্রিটেনভিত্তিক প্রধান উপদেষ্টা রব মরিস বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনে ইউরোপের বিমানশিল্পে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। টানা এক মাস ধরে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেন নিয়ে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে সম্প্রতি পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত দুই স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পুতিন সরকার। অঞ্চল দু’টিতে রাশিয়ার সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো।










