মারা গেল সেই ইঁদুরটি

মারা গেল কম্বোডিয়ার ল্যান্ডমাইন খোঁজা ইঁদুর মাগাওয়া। আট বছর বয়সে মারা গেল মাগাওয়া। পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে ১০০টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন এবং বিস্ফোরক খুঁজে বের করে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এই দেশটিতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করেছে মাগাওয়া।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অ্যাপোপো-এর মোতায়েন করা সবচেয়ে সফল (Hero Rats) ছিল মাগাওয়া। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে। মাগাওয়া সুস্থ ছিল এবং গত সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় সে তার স্বাভাবিক উৎসাহেই খেলেছে। কিন্তু সপ্তাহান্তে সে একটু বেশি ঘুমাতে শুরু করে এবং তার শেষ দিনগুলোতে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়।
কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত কম্বোডিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ল্যান্ডমাইন থাকা দেশগুলোর মধ্যে একটি। এই দেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বিস্ফোরণে অঙ্গ হারিয়েছেন।
তানজানিয়ায় জন্মানো মাগাওয়া তার বম্ব-স্নিফিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য কম্বোডিয়ায় যাওয়ার আগে এক বছরের টানা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ছয় মিলিয়ন পর্যন্ত ল্যান্ডমাইন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরকগুলির মধ্যে একটি রাসায়নিক যৌগ থাকায় মাগাওয়া সহজেই তা সনাক্ত করতে পারত। এভাবে সে প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার বর্গ মিটার ভূমি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে, যা ২০টি ফুটবল গ্রাউন্ডের সমতুল্য। প্রাণীটির ওজন ছিল ১.২ কেজি এবং লম্বায় ছিল ৭০ সেন্টিমিটার। মাগাওয়া যেহেতু যথেষ্ট ছোট এবং হালকা ছিল তাই মাইনের ওপর দিয়ে গেলেও মাইন ট্রিগার করেনি।
মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে একটি টেনিস কোর্টের আকারের বড় ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে সক্ষম ছিল ইঁদুরটি - যা একজন ব্যক্তিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে খুঁজতে গেলে চার দিনের মত সময় লাগবে। কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠার জন্য মাগাওয়া-কে ২০২০ সালে PDSA স্বর্ণপদক সম্মানে সম্মানিত করা হয়। গত জুনে বার্ধক্যের কারণে ধীরে ধীরে নিজের কাজ থেকে অবসর নিতে শুরু করে ইঁদুরটি।
মাগাওয়ার মৃত্যুর পর গোটা দেশ তার অভাব অনুভব করছে। কারণ তার জন্যেই কম্বোডিয়ার মানুষ নিশ্চিন্তে রাত কাটিয়েছে। মাগাওয়ার মৃত্যুর পর এই হিরো ইঁদুরকে কুর্নিশ জানিয়েছে দেশের মানুষ।










