মৌসুম ভালোই কাটছে : সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড়

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ওমিক্রন আতঙ্ক অনেকাংশে কেটে যাওয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল সুন্দরবনে ভিড় করছেন পর্যাপ্তসংখ্যক পর্যটক। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে।
" করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেউই বনে আসতে পারেনি। এ কারণেই শীতের শুরুতে বনে পর্যটক-দর্শনার্থীদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে বলে জানান বন কর্মকর্তারা"।
বছরজুড়ে সুন্দরবনে পর্যটকদের আসা-যাওয়া থাকলেও বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এলাকায় এই মুহূর্তে চলছে পর্যটকদের ভরা মৌসুম।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক সুন্দরবনের মধ্যে প্রবেশ করছেন। প্রতিদিন ৪০-৫০টি বোট, লঞ্চ প্রবেশ করছে। বনে পর্যটকদের আগমন আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সাধারণের পাশাপাশি প্রতিদিন সামরিক বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরবন দেখতে আসছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, করোনার কারণে এতদিন পর্যটকদের আগমন তেমন একটা না হলেও এবার নতুন বছর উদযাপনে সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, করোনাকালীন পর্যটকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বনের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করেন সেজন্য বনকর্মীদের সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ট্যুরিস্ট অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আজম ডেভিড বলেন, বনে নৌযান চলার নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ওমিক্রনের কারণে কিছু সমস্যা তো এখনো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জ্বালানি তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে অন্য সবার মতো ট্যুর অপারেটরদেরও কিছু সমস্যা হচ্ছে। ট্যুরের রেট বাড়াতে হয়েছে। মাথাপিছু আগের যে রেট সাত হাজার টাকা ছিল তা আট হাজার করতে হয়েছে। বর্ধিত রেট ট্যুরিস্টদের মানাতে কষ্ট করতে হচ্ছে। আর খরচ বাড়লে স্বাভাবিকভাবে ট্যুরিস্ট সংখ্যায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ভ্রমণকারীরা জানান, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখলে মনে হবে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য যেন এখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গোটা সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। সুন্দরবন দেখে তারা মুগ্ধ। সুন্দরবনে আসা-যাওয়ার সুব্যবস্থা ও থাকা-খাওয়া এবং সার্বিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের মার্চে করোনার কারণে সুন্দরবনে সবধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সাত মাস পর অক্টোবরের শেষে সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এরপর বনে পর্যটনে সুবাতাস বইতে শুরু করে। কিন্তু গত মাসের ১২ তারিখে ওমিক্রনের সংক্রমণ বাড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সুন্দরবনে নৌযান চলাচলে আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সুন্দরবন ভ্রমণ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েন সুন্দরবনের ট্যুর অপারেটররা।
সুন্দরবনের পর্যটন মৌসুম শুরু হয় অক্টোবর মাসে। চলে মে মাস পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময় হচ্ছে পিক টাইম। এ পিক টাইমে নৌযান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বিপদ কাটাতে তৎপর হয় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন।
গত মাসের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে সভায় বসে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে ছয়টি শর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ আরোপিত শর্তে রয়েছে, পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ করবেন, প্রতিটি লঞ্চে ৭৫ জনের বেশি পর্যটক নেয়া যাবে না, প্রত্যেক পর্যটক যাতে মাস্ক ব্যবহার করে তা লঞ্চ মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে, প্রত্যেক পর্যটকের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, নদীর মাঝপথে কোনো পর্যটক উঠানো যাবে না এবং অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চে ভ্রমণে যাওয়া যাবে না।
-B










