চির প্রেরণার অমর একুশে আজ

রাজপথের দু’পাশ পলাশে শিমুলে লালে লাল। মাঝে মাঝে কোকিলের কুহুস্বর জানিয়ে দিচ্ছে— বসন্ত এসে গেছে— এ বসন্ত শুধুমাত্র ঋতু পরিবর্তনের অনিবার্যতা নয়, বসন্ত এসেছে দেশের গলি থেকে রাজপথে— আকাশে-বাতাসে— গাছে গাছে— আর মানুষের মনে মনে— প্রবল এক জয়ের উচ্ছ্বাস ঘরছাড়া করেছে সবাইকে— ফেব্রুয়ারির একুশ। এক অমোঘ এবং স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল চলেছে পায়ে পায়ে শহিদ মিনারের দিকে— ফাল্গুনের রোদ উপেক্ষা করে মানুষ হেঁটে চলেছে অবিরাম।
২০ ফেব্রুয়ারির মধ্য রাত অর্থাৎ একুশের প্রথম প্রহর থেকে শুরু হয়েছে মানুষের এই পথ চলা। সমস্ত নদী যেমন সাগরে মেশে, তেমনই গোটা দেশ একুশেতে চলেছে মহা সঙ্গমে, শহিদ মিনারের পাদদেশে, যেখানে আছেন বীর শহিদ রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম-সহ আরও অনেকে। এই পথচারীদের সঙ্গে দলে দলে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন সংগঠন, প্রেমিক, প্রেমিকা, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, বাচ্চা কোলে মা, কোনও প্রতিবন্ধী একা মানুষ— কে নেই, সবাই আছেন এই মিছিলে।
ফ্ল্যাশব্যাকে আর এক বসন্ত, লাখ লাখ মানুষ সে দিনও মিছিল করে হেঁটে এসেছিলেন, জনসমুদ্রে লেগেছে জোয়ার, সকলের গতিপথ একই দিকে, অনিবার্য, অবিরাম, সে দিনও ছিল। একের পর এক মানুষের ঢেউ এসে ভাসিয়ে দিচ্ছে রাজপথ, বসন্তের চড়া রোদ হার মানছে মানুষগুলোর হৃদয়ের উষ্ণতার কাছে।
শোকে বিহ্বল, গৌরবে দীপ্ত এক অনন্য দিন আজ বাঙালির জীবনে। মানব ইতিহাসের দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় প্রথমবার মানুষ মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রাজপথে। সেই মানুষের পরিচয় বাঙালি।
আজ মধ্য রাত থেকে সারা দিন কেউ মালা হাতে, কেউ সুদৃশ্য পুষ্পস্তবক নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন শহীদ মিনারের দিকে। মধ্য রাত থেকে ছিল কালো ব্যানার, কালো ব্যাজ। নগ্ন পায়ে উঠেছেন শহীদ মিনারের বেদিতে। কণ্ঠে ছিল সেই চিরচেনা গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’
আজ সরকারি ছুটির দিন। ঢাকার মতো দেশের সর্বত্রই আজ সকালে প্রভাতফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে শহীদদের স্মৃতির প্রতি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দেশের প্রতিটি মসজিদ ও উপাসনালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার। বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনেও নেয়া হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি। জাতীয় দৈনিকগুলো দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি রেডিও ও টেলিভিশনগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান।
-B










