রিসোর্টে থাকলেই ‘চাঁদের নৌকায়' ভ্রমণ

বালুর ওপর ছোট্ট একটা চৌবাচ্চা। তাতে ফুটে আছে নীলপদ্ম। কাছেই লম্বা একটা কনটেইনারের গায়ে বড় বড় কাচের জানালা। চারদিক থেকে আলো ঠিকরে পড়ছে ভেতরে। এটা রেস্তোরাঁর একাংশ। অন্যদিকে গাছপালা আর লতাগুল্মে ভরা ঝোপের ফাঁকে ছোট ছোট বাড়ি।
আধুনিক সুবিধাসহ সাজানো–গোছানো। সমুদ্রের ঢেউ গুণে একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় এখানে! মারমেইড বিচ রিসোর্টের এই অভিজ্ঞতা আজীবন মনে রাখার মতো।
যতদূর চোখ যায়—গহীন জলরাশি ছুঁই ছুঁই সুনীল আকাশ, উত্তাল ঢেউয়ের তালে দুলে চলছে নৌকা। দিগন্ত বিস্তৃত উদার সাগরে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিমোহিত আবেশে হারিয়ে যায় মন।
পৃথিবীর সব সৌন্দর্য আর জীবনের অপার বিস্ময় যেন এখানে মিলেমিশে একাকার।
টেকনাফগামী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে রেজু খালের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে মারমেইড বিচ রিসোর্ট। মারমেইড বিচ রিসোর্টে থাকলেই পর্যটকদের চাঁদের নৌকায় করে নেওয়া হবে বঙ্গোপসাগরে। এর জন্য পর্যটকদের গুণতে হবে না বাড়তি কোন অর্থও।
কক্সবাজার ভ্রমণে গেলে সৈকতের তীরে সারি সারি চাঁদের নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। চাঁদের মতো দেখতে বলেই এর নাম ‘চাঁদের নৌকা’। এ ধরনের নৌকা কক্সবাজারের ঐতিহ্য। সাগর তীরে পর্যটকদেরই অপেক্ষায় থাকা এসব নৌকায় পর্যটকদের ছবি তোলার হিড়িক পড়ে।
মারমেইড বিচ রিসোর্টে রাত্রিযাপন করলে পর্যটকরা পাবেন আরও বেশ কিছু সুবিধা। চাঁদের নৌকায় করে রেজু খাল হয়ে বঙ্গোপসাগরে নেওয়া হবে পর্যটকদের। রিসোর্টে অবস্থানকালে একদিন তাদের সাগর ভ্রমণের স্বাদ দেওয়া হবে। ভ্রমণের সময় খাবার ও অন্যান্য পরিষেবাও থাকবে।
এখন পর্যন্ত নৌকায় করে পর্যটকদের সাগর ভ্রমণের কোনো উদ্যোগ নেই কক্সবাজারে। জেট স্কি বা ওয়াটার বাইকে করে সাগরে ‘ঢুঁ মারা’ গেলেও তা যেন দুধের স্বাদ ঘোলে মেঠানোর মতো। এর জন্য গুণতেও হয় কাড়ি কাড়ি টাকা।
মারমেইড ইকো ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক সোহাগ বলেন, চাঁদের নৌকাগুলো সাগরতীরেই পড়ে থাকে। অথচ এগুলোতে করে পর্যটকদের সাগরে ঘুরানোর উদ্যোগ নেয়নি কেউ। মারমেইডই প্রথম চাঁদের নৌকায় করে সাগরে নেবে পর্যটকদের। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। মারমেইড বিচ রিসোর্টে অবস্থানের পুরোটা সময় আমরা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আনন্দঘন করে তুলতে চাই।
-B










