নদীতে মার্কিন উড়ানের ক্র্যাশ ল্যান্ড

উড্ডয়নের প্রায় মিনিটের মধ্যেই বিকট এক শব্দ, বিমানটি নড়ে ওঠে মুহুর্তের মধ্যেই পোড়া এবং ধোঁয়ার গন্ধ, বিমানটি বেঁকে যেতে শুরু করে৷
এমন অদ্ভুত দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না ৷ বিশাল এক বিমান ভাসছে মাঝ নদীতে ৷ আর আশেপাশে অনেকগুলো উদ্ধার জলযান৷ হ্যাঁ ঠিক এই দৃশ্যই দেখা গেলো কয়েক ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী, ২০০৯)মাঝরাতের দিকে নিউইয়র্কের হাডসন নদীতে৷
অনেকেই এই দৃশ্যকে কোন মুভির দৃশ্য বলে ভুল করে ফেলছিলেন, এই কথা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজে তাৎক্ষনিক ভাবেই জানানো হচ্ছিল৷ তাৎক্ষণিক সাক্ষাতকারেও অনেকেই সেকথা বলেছেনও৷
ইউ এস এয়ারওয়েজের, এয়ারবাস এ৩২০-এর ফ্লাইট ১৫৪৯৷ দেড় শতাধিক আরোহী নিয়ে ফ্লাইটটি নর্থ ক্যারোলিনার শার্লোটের উদ্দেশ্যে লা গার্ডিয়া বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়ন শুরু করে৷ উড্ডয়ন শুরুর ৪৫ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে ক্র্যাশ ল্যান্ড করে৷
আবার কোন কোন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, উড্ডয়ন শুরুর তিন মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিমানটি হাডসন নদীতে ক্র্যাশ ল্যান্ড করে৷ তবে আরোহী সবাইকেই নদীতে ভাসমান বিমান থেকে জিবীত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে৷
জানা গেছে, সবাই সুস্থ আছেন৷ যদিও এই সময় ঘটনাস্থলের তাপমাত্রা ছিল হিমাংকের অনেক নীচে৷ নদীর পানি ছিল বরফ শীতল৷ বিমানটিতে ১৫০ জন যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু ছিলেন৷ জেটটির দুটি ইঞ্জিনে পাখির আঘাতের কারণেই বিমানটি ক্র্যাশ করেছে বলে, প্রাথমিক ভাবে বলা হয়৷
তার কিছুক্ষণ পরেই বলা হয়, বিমানটি আসলে একটি পাখির ঝাঁকের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল৷ তবে এটি কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নয়৷ সার্বিক পরিস্থিতিই তা অনেকটা পরিষ্কার করে দিয়েছে৷ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন কর্মকর্তা জানান, কোন ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি৷
উদ্ধারের পর বিমানেরই একজন যাত্রী ঘটনা বর্ননা করার সময় বলেন, উড্ডয়নের প্রায় মিনিটের মধ্যেই বিকট এক শব্দ শুনতে পাই আমরা, বিমানটি নড়ে ওঠে মুহুর্তের মধ্যেই পোড়া এবং ধোঁয়ার গন্ধ পাই, বিমানটি বেঁকে যেতে শুরু করে৷ মুহুর্তেই সবাই বুঝে যায় কিছু একটা ঘটছে৷
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন শুরু করে৷
একটি সূত্র জানায়, ঘটনার শুরুতেই বৈমানিক বুঝতে পারেন তাঁর ফিরে যাওয়া উচিৎ৷ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলও তাঁকে যেতেই বলে৷ কিন্তু বৈমানিক নিউ জার্সীতে যেতে চাচ্ছিলেন, কেননা সেটাই ছিল সবচেয়ে কাছে৷ সূত্রটি জানায়, এরপরপরই পাইলটের সঙ্গে ট্রান্সমিশন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ বৈমানিক সবকিছু চিন্তা করেই বিমানটি নদীতে ল্যান্ড করানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে সবাই বলছেন৷ ঘটনার পর নিউইয়র্কের মেয়র তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বৈমানিকের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন৷










