পর্যটক সংকটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া


ঢাকাঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। এর বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটন খাতের ওপরও। ফলে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো পর্যটননির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি এখন চরম সংকটে। খবর এপি।
প্রতিবেদন বলছে, করোনা মহামারীর ধাক্কা এ অঞ্চলের পর্যটন খাত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন যুদ্ধ। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ। ফলে হুহু করে বাড়ছে তেলের দাম। এশিয়ার দেশগুলোয় এর প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি ও দ্রুত।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্যানুযায়ী, জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজের টিকিট এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে একসময়ের জমজমাট পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।
জ্বালানি সংকটে ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস ও এয়ারএশিয়ার মতো বড় সংস্থাগুলো ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। অনেক কোম্পানি নতুন করে ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।
উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরু থেকে পারস্য উপসাগরের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘপথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে সংস্থাগুলো টিকিটের দাম ও ফুয়েল সারচার্জ বা জ্বালানি শুল্ক ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে। যেমন ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনস মাঝারি দূরত্বের ফ্লাইটের জন্য জ্বালানি শুল্ক ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করেছে। আর দূরপাল্লার ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ শুল্ক ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ১৭৪ ডলার করা হয়েছে। চড়া ভাড়ার কারণে পর্যটকরা শেষ মুহূর্তে এসে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছে।
পর্যটন খাত অনেক উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। থাইল্যান্ডের জিডিপি প্রায় ১৩ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। ভিয়েতনামে এর অবদান প্রায় ৯ শতাংশ। ফিলিপাইন বা নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য বিদেশী মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস পর্যটক। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো ব্যবস্থাটি ওলটপালট করে দিয়েছে।
কম্বোডিয়ার বিখ্যাত আংকর ওয়াট মন্দির এলাকার টুকটুকচালক শিব পেচ জানান, আগে তিনি দিনে ২০ ডলার পর্যন্ত আয় করতেন। এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ ডলারে। এর অর্ধেকই চলে যায় গ্যাসোলিন বা জ্বালানি কিনতে। বাকি অর্থ দিয়ে কোনোমতে খাবার জোটে। অনেক দিন ১ পয়সাও আয় হয় না।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় ও হো চি মিন সিটিতে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করেন লে তুয়েত লান। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হলে মানুষ সবার আগে ভ্রমণ খরচ কমায়। সংকটের সময়ে বিলাসী পর্যটকরা সস্তা হোটেলের খোঁজ করেন। আর মধ্যবিত্তরা ভ্রমণই বন্ধ করে দেন। এটি পুরো আবাসন ও পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
২০১৯ সালের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ১১ শতাংশ আসত পর্যটন থেকে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ‘মুডিস অ্যানালিটিকস’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে চলতি বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।










