উটি ভারতের ‘চকলেট শহর’


ঢাকাঃ ভারতের তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা রূপসী পাহাড়ি শহর উটি। কেউ কেউ একে চেনেন কেবল মেঘ-কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য, আবার কেউ ভালোবাসেন এর ঔপনিবেশিক আমেজ।
তবে পর্যটকদের কাছে উটির অন্যতম বড় আকর্ষণ এর ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি চকলেট। কোনও বাজারজাতকরণ বা বিজ্ঞাপনী প্রচারণা ছাড়াই কয়েক দশকের নিপুণ কারুশিল্প উটিকে আজ এনে দিয়েছে ভারতের ‘চকলেট শহর’-এর খেতাব।
উটির এই চকলেট-যাত্রার শুরুটা হয়েছিল বেশ প্রাকৃতিকভাবেই। নীলগিরির ঠান্ডা আবহাওয়া চকলেট তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। অতিরিক্ত হিমায়নের প্রয়োজন না হওয়ায় এখানকার স্থানীয় পরিবারগুলো সহজ উপায়ে ও তাজা উপকরণ দিয়ে হাতে তৈরি চকলেট বানাতে শুরু করে।
নীলগিরির ডেইরি ফার্মগুলো থেকে পাওয়া তাজা দুধ ও ক্রিম এর স্বাদ বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। দিন দিন পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চকলেটের চাহিদাও বাড়ে। ফ্রুট অ্যান্ড নাট, ডার্ক চকলেট, ট্রাফল কিংবা রাম মিশ্রিত নানা স্বাদের এই চকলেট এখন উটির অন্যতম প্রধান স্মারক।
উটির চারিং ক্রস, কমার্শিয়াল রোড কিংবা প্রধান বাজার এলাকার মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট বহু চকলেটের দোকান। গ্লাস কাউন্টারে সাজানো এসব দোকানে দেখা মেলে নানা স্বাদের সুস্বাদু চকলেট। এমনকি কিছু দোকানে পর্যটকরা সরাসরি চকলেট তৈরির প্রক্রিয়া দেখার সুযোগও পান।
শুধু চকলেটই নয়, উটির ধীরগতির শান্ত পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের টানটান ব্যস্ততা থেকে খানিক বিরতি দেয়। বিখ্যাত হেরিটেজ টয় ট্রেন ভ্রমণ, ইউক্যালিপটাসের গন্ধমাখা বন, প্রাকৃতির শোভায় ঘেরা লেক আর বোটানিক্যাল গার্ডেন উটিকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।
উটিতে বছর জুড়েই যাওয়া যায়, তবে অক্টোবর থেকে জুন মাসের মধ্যবর্তী সময় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বিশেষ করে শীতকালের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল পাহাড়ি আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। উটি যাওয়ার জন্য নিকটস্থ বিমানবন্দর হলো প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দূরের কোয়েম্বাটুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ ছাড়া মেট্টুপালায়ম থেকে ছেড়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে ট্রেনে চেপে কিংবা কোয়েম্বাটুর, মহীশূর ও বেঙ্গালুরু থেকে সড়কপথেও সহজে উটি পৌঁছানো যায়।
মিষ্টিপ্রেমী হয়ে থাকলে নিজের ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি’র স্বপ্ন পূরণ করতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন ভারতের এই ‘চকলেট শহরে’!










