ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে ১৭ বছর উড়োজাহাজ চালানোর পর ধরা


ঢাকাঃ প্রায় ১৭ বছর ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে কানাডার পুলিশ। ওই ব্যক্তি দশ হাজারেরও বেশি যাত্রী বহন করেছিলেন। খবর সিএনএন।
গত ১ জুন গ্রেফতার হন এয়ার কানাডার সাবেক পাইলট জিওফ্রি ওয়াল। তদন্তকারীদের মতে, ২০০৯-২৫ সাল পর্যন্ত নয় শতাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অথচ কখনোই প্রয়োজনীয় পাইলট লাইসেন্স সম্পন্ন করেননি বা বাধ্যতামূলক পরীক্ষাগুলো পাস করেননি জিওফ্রি।
পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনটি অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ক্যারিয়ারের এমন পর্যায়ে পৌঁছান জিওফ্রি ওয়াল, যেখানে তিনি ফ্লাইটের কমান্ডিং পাইলট ছিলেন এবং প্রায় ১৭ বছর ধরে বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ ও ৭৮৭ উড়িয়েছেন। এ সময়ে তার আয় ছিল প্রায় ৩ কোটি কানাডিয়ান ডলার বা ২০ লাখ ডলার।
জিওফ্রির প্রতারণার ঘটনাটিকে ২০০২ সালের হলিউড সিনেমা ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যেখানে এক কিশোর ভুয়া পরিচয়ে প্যান অ্যামের পাইলট হিসেবে কাজ করে।
জিওফ্রি ওয়াল তার ২৭ বছরের পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর জন্য লাইসেন্সধারী ছিলেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স ফর অ্যারোপ্লেনস (এটিপিএল-এ) তার ছিল না।
মিলিনোভিচ বলেন, এটি অনেকটা এমন যে একজন চিকিৎসক গাহস্থ্য চিকিৎসায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত, কিন্তু নিজের চেম্বারে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করছেন। পেশাগত পদবির জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম ও যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে, এসব নিয়ম যথাযথ কারণেই তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস অভিযুক্ত ব্যক্তি তার যোগ্যতা নিয়ে নিয়োগকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ভুল তথ্য দিয়েছেন।’
তদন্তকারীরা জানান, ২০২৫ সালে একটি নিয়মিত যাচাইয়ের সময় জিওফ্রির লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিতে ‘অস্বাভাবিকতা’ ধরা পড়ে। এর পর পিল রিজিওনাল পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে এয়ার কানাডা।










