বই পড়ার চল কমলেও জাপানে বাড়ছে গ্রন্থাগার


ঢাকাঃ জাপানের মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় বই পড়ার অভ্যাস কমেছে। পরিসংখ্যান তাই বলছে। তবে এ পরিবর্তনের মধ্যেও দেশটিতে পাবলিক লাইব্রেরি বা গণগ্রন্থাগারের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে লাইব্রেরির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিস্তব্ধ বইয়ের ঘর থেকে বের হয়ে জাপানের লাইব্রেরিগুলো এখন প্রাণবন্ত সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
বদলে যাওয়া গ্রন্থাগার সংস্কৃতি
জাপানের কাগেশিমা শহরের ব্যস্ত এলাকায় ২০২২ সালে গড়ে ওঠে ‘তেনমোনকান লাইব্রেরি’। একটি বাণিজ্যিক ভবনের দুটি তলাজুড়ে থাকা এ লাইব্রেরিতে প্রায় ৫০ হাজার বই আছে। এখানে বছরে প্রায় সাত লাখ মানুষ আসেন। এখানে এসে বই পড়ার পাশাপাশি গল্পও করেন তরুণ ও অভিভাবকরা। এমনকি ‘ঢাকনাযুক্ত’ পাত্রে পানীয় নিয়ে আসার সুযোগও আছে এখানে। লাইব্রেরিগুলোয় বইয়ের বিভাগগুলোও সাজানো হয়েছে সহজ নামে, যেমন ‘কাজ’ বা ‘লালন-পালন’।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, জাপানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। ২৫ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৮০০টি বেশি।
কমছে পাঠক ও বুকশপ
লাইব্রেরি বাড়লেও জাপানে পড়ার হার কমছে। একটি সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মাসে একটি বইও পড়েননি। আগের জরিপগুলোয় এ হার ছিল ৪০ শতাংশ থেকে ৪৯ শতাংশের মধ্যে। এছাড়া গত ১০ বছরে জাপানে বইয়ের দোকানের সংখ্যাও প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
কেন বাড়ছে লাইব্রেরি?
বই পড়ার আগ্রহ কমার পরও লাইব্রেরি বাড়ার পেছনে কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। যেমন পৌরসভা একত্রীকরণ: ২০০০-এর দশকে জাপানে অনেকগুলো পৌরসভা একসঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়। ফলে স্থানীয় ছোট ছোট কমিউনিটি সেন্টারের বইয়ের ঘরগুলো বড় লাইব্রেরিতে রূপ নেয়।
আঞ্চলিক উন্নয়ন: ২০১০ সালের পর থেকে কিছু স্থানীয় সরকার লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের কাজ শুরু করে। তা দেখে অন্য এলাকাগুলোও নতুন লাইব্রেরি তৈরিতে উৎসাহিত হয়।
তৃতীয় স্থান: বর্তমান সময়ে লাইব্রেরিগুলো ঘর, কর্মক্ষেত্র বা বিদ্যালয়ের বাইরে মানুষের জন্য একটি ‘তৃতীয় স্থান’ হিসেবে কাজ করছে। মানুষ এখানে এসে কেবল বই পড়ে না, বরং আড্ডা দেয়, কফি খায় বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
জাপানে বর্তমানে নতুন লাইব্রেরি তৈরির গতি কিছুটা কমেছে। তবে পুরনো লাইব্রেরিগুলো সংস্কার ও স্থানান্তরের কাজ দ্রুত চলছে। যেমন টোকিওর কিওবাশি লাইব্রেরি স্থানান্তরিত হয়ে একটি জাদুঘর, ক্যাফে ও অডিটোরিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে সেখানে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। খরচ কমাতে এবং সেবার মান বাড়াতে জাপানের ২০ শতাংশের বেশি লাইব্রেরি এখন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।









