ঢাকায় ফের রোমানিয়ার কন্স্যুলেট অফিস খোলার দাবি


ঢাকা : ঢাকায় রোমানিয়ার স্থায়ী দূতাবাস না থাকায় ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশী নাগরিকদের যেতে হচ্ছে সুদুর ভারতে। সেখানে যাওয়ার পরও ফেইক ভিসাসহ নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে অনেকে প্রতারিত ও নিঃস্ব হচ্ছেন।
বিগত সময়ে ভিসা প্রত্যাশীদের হয়রানি কমাতে রোমানিয়া সরকার ঢাকার কাকরাইলে অস্থায়ী কন্স্যুলেট অফিস স্থাপন করে ভিসা দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন।
ভুক্তভোগী যাত্রী এবং রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সরকার যদি নতুন করে আবারো রোমানিয়া সরকারকে অনুরোধ করে অস্থায়ী কন্স্যুলেট অফিসটি ঢাকায় খোলার ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে রোমানিয়াগামী শত শত শ্রমিককে ভিসার স্টিকার লাগানোর জন্য আর ভারতে যেতে হবে না। এতে একদিকে তাদের যেমন অর্থ সাশ্রয় হবে তেমিন কর্মীদের নানামুখী প্রতারিত হওয়ার সংখ্যাও কমে আসবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় রোমানিয়ার কোনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী দূতাবাস বা নিয়মিত ভিসা প্রদানকারী কন্স্যুলেট অফিস নেই। ২০২২ সালে সীমিত সময়ের জন্য ঢাকার কাকরাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর প্রধান ভবনের ষষ্ঠ তলায় অস্থায়ী অফিস খুলে রোমানিয়ার ভিসা প্রসেসিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। নির্ধারিত সময়ের পর তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ঢাকা বা বাংলাদেশ থেকে সরাসরি রোমানিয়ায় নিয়মিত ভিসা প্রসেসিং বা স্টিকার লাগানোর কোনো সুযোগ নেই।
রোমানিয়ার শ্রমবাজারটি সম্ভাবনাময় হলেও রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসাটি ঠিক আছে কি নাই সেটি যাচাই করার জন্য সত্যায়ন প্রয়োজন।
এক ভুক্তভোগী বলেন, দূতাবাসে একক চাহিদাপত্রের বিপরীতে এই ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত জাল ভিসার যন্ত্রণাসহ নানা সমস্যা ফেস করতে হয়। শুধু যে আমরাই সমস্যায় পড়ছি তা কিন্তু নয়। ঢাকায় রোমানিয়ার দূতাবাস না থাকায় রোমানিয়ার কোম্পানি থেকে অনলাইনে আসা ভিসার স্টিকার নিতে আমাদের কর্মীদের যেতে হচ্ছে ভারতে।
ভারতে যেতে এক দিকে যেমন ভিসা পেতে সমস্যা, তেমনি সেখানে যাওয়া, থাকা-খাওয়ার খরচ করা ছাড়াও একজন কর্মীকে কখনো কখনো জাল ভিসার খপ্পরেও পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে ঢাকায় রোমানিয়া সরকার অস্থায়ী কন্স্যুলেট অফিস খুলে ভিসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। এতে কর্মীরা যেমন সুবিধা পেয়েছিল সেভাবে আমরাও ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজগুলো সুন্দরভাবে করতে পারতাম। কী কারণে এবং কোন কোন কর্মকর্তার কারণে ঢাকার অস্থায়ী অফিসটি রাখা গেলো না সেটি খতিয়ে দেখা উচিত এবং নতুন করে আবারো যাতে ঢাকায় রোমানিয়ার কন্স্যুলেট অফিস খোলা যায় সে ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যখন রোমানিয়ার অস্থায়ী ভিসা অফিস ঢাকায় খোলা হয়েছিলো তখন বেশ কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সম্বন্বয়ে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী সিন্ডিকেট। রোমানিয়ার ভিসা প্রদানকারী ছয় সদস্যের দলের প্রতিনিধি দলটি ঢাকা ছাড়ার আগে সিন্ডিকেটের ঘুষ দাবির বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে গিয়েছিলেন। এরপরই তারা তাদের সরকারের নির্দেশে অফিস গুটিয়ে চলে যান।










