বিশ্বকাপ ঘিরে বেড়েছে বড় মনিটরের টিভি বিক্রি


ঢাকাঃ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১ টাই (বাংলাদেশ সময় ) শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এর প্রভাবে দেশের বাজারে টেলিভিশনের বিক্রি বেড়েছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বড় মনিটরের টিভির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও বিশ্বকাপের আমেজ টেলিভিশন ছাড়া পূর্ণ হয় না বলে মনে করেন দর্শকরা। তাদের মতে, দলবেঁধে হইহুল্লোড় করে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। আর সেই অভিজ্ঞতা বড় স্ক্রিন ছাড়া সম্ভব নয়।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় যেখানে ৩২ ইঞ্চি টিভির চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি, এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বেশির ভাগ ক্রেতার ৪৩ ইঞ্চি বা এর চেয়ে বড় টিভি কেনায় ঝোঁক।
ধনাঢ্য অধ্যুষিত এলাকায় ৭৫-১০০ ইঞ্চির ওপর পর্যন্ত টিভি কেনার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ছোট টিভির যুগ শেষ হয়ে এখন বড় স্ক্রিনই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের আচরণেও পরিবর্তন এসেছে—অনেকে তুলনামূলক কম দামের টিভি কিনলেও তাদের নজর স্মার্ট ফিচারে।
বিক্রেতারা বলছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা টফি অ্যাপ, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে লাইভ স্ট্রিমিং দেখার সুবিধা থাকলে খারাপ কোয়ালিটি হলেও টিভি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমানের অভিভাবকরাও সন্তানদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখতে টিভিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে তাদের কাছে স্মার্ট ফিচার গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৪৩ ইঞ্চির নিচে ছোট সাইজের চাহিদা ৪২ শতাংশ, সেখানে এর ওপরের আকারের টিভির চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে ৪৩, ৫০ ও ৫৫ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় স্ক্রিনের টিভি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন তারা।
এছাড়া অনেক শোরুম বিশ্বকাপ উপলক্ষে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য থেকে কম দামে বিক্রি করছে, যাতে বেশি বিক্রি নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া ফ্রি জার্সি-ফুটবল, ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টি-সার্ভিসিংয়ে নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেয়া হচ্ছে।
ক্রেতাদের এ ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠান এবার বাজারে নতুন করে ১০০, ৮৫ ও ৬৫ ইঞ্চির মতো বড় পর্দার টিভি নিয়ে এসেছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, মানসম্মত পণ্য এবং দেশজুড়ে শক্তিশালী বিক্রয়োত্তর সেবার (সার্ভিসিং) কারণে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ ক্রেতা এখন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর ওপর আস্থা রাখছেন, যার মধ্যে ওয়ালটন, ভিশন, যমুনা শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।
রাজধানীর ইলেকট্রনিকস বাজার ঘুরে জানা গেছে, উচ্চ চাহিদা থাকা কোম্পানির সাধারণ সময়ে একটি শোরুমে মাসে গড়ে ৪৫-৫০টি টিভি বিক্রি হলেও বিশ্বকাপের মাসে তা কয়েক গুণ বাড়তে পারে। অনেক কোম্পানির জন্য তাদের বার্ষিক মোট টিভি বিক্রির ৬০-৭০ শতাংশ এ সময়েই হয়ে থাকে।
বিভিন্ন শোরুম, দোকানে কর্মরত বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, ঢাকার মানুষ এখন আর দেশী ব্র্যান্ডের দিকে তেমন ঝুঁকছে না। তারা বলছেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারাও এখন ইন্টারনেটে গবেষণা করে ইলেকট্রনিকস পণ্য কিনতে আসেন। ফলে দেশী ব্র্যান্ডের প্রতি আগ্রহ কমছে।
এ নিয়ে একজন বিক্রয়কর্মী প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৪৩ ইঞ্চি টিভি বানানোর চেষ্টা করা হয়, তবে মান (কোয়ালিটি) কীভাবে নিশ্চিত হবে?’ তার মতে, মান নিশ্চিত করা গেলে বাজার যত ছোটই হোক না কেন, চাহিদা থাকবেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত এক্সক্লুসিভ শোরুমগুলোতে মাসে সাধারণত ৩৭-৩৮টি টিভি বিক্রি হয়ে থাকে। তবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে তারা ১০ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে। তারা প্রতিদিন ৮-১৫টি টিভি বিক্রির আশা করছেন।
তবে নিম্নবিত্তের মানুষ এখনো দেশী ব্র্যান্ডগুলোতেই আস্থা রাখছে। যেমন দেশী মাঝারির মানের ৩২ ইঞ্চির নানা কনফিগারেশনের টিভি ২৩ হাজার ৯০০ থেকে শুরু করে ২৯ হাজার ৯০০ টাকায় পাওয়া যায়, যা সাধারণ সময়গুলোতেই বিক্রির শীর্ষে থাকে।


