শমশেরনগর বিমানবন্দর দ্রুত চালু করুন দাবি প্রবাসীদের

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার দাবি জানিয়েছে শমশেরনগর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কাতার।
সম্প্রতি শমশেরনগর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট কাতার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান প্রবাসীরা।
বিমানবন্দরটি চালু হলে এটিকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় আরও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়বে বলে ধারণা প্রবাসীদের।
প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। এ অঞ্চলের প্রবাসীদের যাত্রীসেবা দিয়ে বিমানবন্দরটি চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান প্রবাসীরা।
প্রবাসীরা দাবি জানিয়ে বলেন, সময় এখন বদলেছে, তাই বিমানবন্দরটি চালু করা জরুরি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে অযত্ম-অবহেলায় অব্যবহৃতভাবে পড়ে আছে সিলেট বিভাগের শমসেরনগর বিমানবন্দরটি। ১৯৭০ সালে পিআইএ’র অভ্যন্তরীণ একটি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শমশেরনগর বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণকালে রানওয়ের কাছে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। সেসময় বিমানবন্দরের ভেতরে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এর বেশকিছু অবকাঠামো পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
১৯৭৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ইউনিট খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে এখানে বিমান বাহিনীর একটি পরীক্ষণ স্কুল স্থাপন করে চালু করা হয় বার্ষিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তখন থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করছে।
১৯৯৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দর থেকে এ্যারোবেঙ্গল এয়ার সার্ভিসের ফ্লাইট চালু করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে এ ফ্লাইট সার্ভিসটি যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। পরে এ প্রক্রিয়াও আলোর মুখ দেখতে পারেনি।
শেষবারের মতো ২০১৬ সালে তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি শমসেরনগর বিমানবন্দরটি ফের চালুর উদ্যোগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সরকার ইতিমধ্যে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কাঙ্খিত এই প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে আলোর মুখ আর দেখেনি।
-Biplob










