বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো টিকে থাকতে ফ্রিকোয়েন্সি কমাচ্ছে

তুরস্কের তার্কিশ এয়ারলাইন্স আগে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও সেটি কমিয়ে এখন করছে ৭টি।
ঘনকুয়াশার কথা বলা হলেও মূলত ডলার সঙ্কটে বিদেশী বিভিন্ন এয়ারলাইন্স প্রতিদিন ফ্লাইট অপারেশনে আর্থিকসহ নানাবিধ সঙ্কটের সম্মুখীন। তার্কিশ অন্যান্য বিদেশী এয়ারলাইন্স টিকে থাকার জন্য ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি কমানোরও সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সঙ্কট থাকলেও বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর এই মুহূর্তে ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করার কোনো চিন্তাভাবনা নেই।
তার্কিশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস, জেট ফুয়েল কেনা থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ফ্লাইট অপারেশন খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। যার কারণে তার্কিশ, এমিরেটস, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোকে এই সময়ে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে বিশে^র বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তার্কিশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার সিদ্দিকীর সাথে গতকাল মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা আগে প্রতিদিন ২টি করে সপ্তাহে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করতাম। এখন কমিয়ে সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করছি। মানে প্রতিদিন দু’টির পরিবর্তে একটি করে ফ্লাইট চালাচ্ছি।
ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, উইন্টার সিজনে আমাদের ফ্লাইট অপারেশনে মারাত্মক সমস্যা হয়। কখনো রাতের ফ্লাইট নামানোই যায় না। তখন হয় কি, দুটো ফ্লাইটের টাইমিং এক হয়ে যায়। সেজন্য আমরা এখন প্রতিদিন একটি ফ্লাইট রাখছি। ফেব্রুয়ারির পর মার্চের দিকে আবারো দু’টি করে ফ্লাইট চালু হবে।
ফ্লাইট শিডিউল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে ২০১০ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করেছি। এখন নরমালি ইস্তাম্বুল থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ছাড়ে। ঢাকায় আসে ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে। অপর দিকে ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে।
এই রুটে যাত্রী কেমন পাওয়া যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রী ভালো পাওয়া যাচ্ছে। অলমোস্ট ৮৫%। তার্কিশ এয়ারলাইন্সের অনেক ডেস্টিনেশন রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে ম্যাক্সিমাম যাত্রী যাচ্ছেন আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডায়। ইদানীং কিছুসংখ্যক যাত্রী ট্যুরিস্ট হিসেবে তুর্কিশ বেড়াতে যাচ্ছেন।
তুর্কিতে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে টপক্যাপি নামে একটি প্যালেস রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির একটা পার্ট রয়েছে এশিয়াতে। অন্য একটা পার্ট পড়েছে ইউরোপে। ওইগুলো দেখার জন্যও প্রচুর পর্যটক বেড়াতে যায়। রয়েছে অনেক ন্যাচারাল সৌন্দর্য। এর মধ্যে ৩-৪টি সমুদ্র রয়েছে।
ফ্লাইট অপারেশনে বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ থেকে কি ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন জানতে চাইলে এই এয়ারলাইন্স কর্মকর্তা বলেন, সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে আমাদেরকে ভালোই কো-অপারেশন করা হচ্ছে। এয়ারপোর্ট টার্মিনালে বোর্ডিং ব্রিজ পাওয়া গেলেও সমস্যার মধ্যে একটাই, সেটা হচ্ছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সমস্যা। এটা নিয়ে শুধু আমরা নই, যতগুলো বিদেশী এয়ারলাইন্স রয়েছে সবাই প্রতিনিয়ত এই সমস্যা ফেইস করছে। কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আমাদের এখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট একটাই। সেটা হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ছাড়া তো আর সেকেন্ড হ্যান্ড কেউ নেই। ওইখানে দেখা যায়, পরপর কয়েকটি ফ্লাইট একসাথে অবতরণ করলে তখন খুব সমস্যা হয়ে যায়।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সময় বেশ কিছু ইকুইপমেন্ট দরকার পড়ে। বিশেষ করে ব্যাগেজ আনলোড করতে গেলে দেখা যায় ইকুইপমেন্ট কম। একটা ফ্লাইট নামলে তখন এ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় আমাদের। সমস্যা তখন তীব্র আকার ধারণ করে। এই সমস্যা আমরাসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিটিংয়ে তুলেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না।
-B










