বাড়ছে ইকোট্যুরিজমের পরিধি - ঝুঁকিতে টাঙ্গুয়ার হাওড়

রামসার সাইট খ্যাত দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমির আধার সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড় পরিবেশগত সংকটে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারির অভাবে অবাধে কেটে নেয়া হচ্ছে হাওড়ের প্রাণ হিজল-করচের বাগান। ফলে পর্যটন স্থান খ্যাত জলাভূমিটি হারাচ্ছে নিজস্ব প্রকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদের ঐশ্বর্য।
পর্যটকদের ফেলে যাওয়া ময়লা আর প্লাস্টিকে সয়লাব টাংগুয়ার হাওড়ের চারপাশ। হাওড়টির এমন বেহালদশা ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ, পর্যটক ও হাওড়ের নেতারা। এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রশাসন ও পরিবেশ কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন তারা। হাওড়টি বাঁচাতে দ্রত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এখানে দেখা মেলে স্বচ্ছ নীল পানি। সেই পানির ওপর হিজল করচের বাঁক। পানিতে নানা বর্ণের পরিযায়ী পাখ-পাখালীর কিচিরমিচির শব্দ। ডালে ডালে সাদা বক। আর এই সবকিছু মিলেই সৌন্দর্য, সম্পদের ঐশ্বর্যের হাওড়ের পরিবেশ। প্রায় ১০০ কিলোমিটারের অধিক জায়গা জুড়ে বিস্তৃত দেশের সর্ববৃহৎ জলাভূমি এটি।
১৯৯৯ সালে এই হাওড়কে সংকটাপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে ৬০ বছরের ইজারা প্রথার অবসান করা হয়। জীববৈচিত্র হুমকিতে থাকায় ২০০০ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৩ সাল থেকে এই হাওড়ের রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব নেয় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সারাবছরই এই হাওড়ে বিভিন্নজাতের পাখি স্থায়ীভাবে বসবাস করে। শীত মৌসুম আসলে দেখা মিলে মোট ২০৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। আগে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বিরল প্রজাতির ফিস পেলিসাস ঈগল দেখতে পাওয়া গেলেও এখন আর তা চোখে পড়ে না।
নানান প্রজাতির পাখ-পাখালির সাথে এই হাওড়টি জলজ উদ্ভিদের জন্য অন্যতম। হিজল-করচের বাগানে বড় বড় হাউজবোট বেঁধে রাখার কারণে বেশিরভাগ গাছ মরে যাচ্ছে। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক আর পলিথিনে জড়িয়ে ধ্বংস হওয়ার পথে গাছ ও পরিবেশ। বিলের ইজারাদাররা রাতের আঁধারে কেটে নিচ্ছে অবশিষ্ট থাকা এসব গাছ। জীব বৈচিত্রের অপার আধার বিশ্ব ঐতিহ্যের এই বিশেষ অঞ্চলটি দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ।
পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর পরিবেশ ও সম্পদে ভরপুর থাকার কথা। কিন্তু আমরা এখন যেটা দেখছি হাজার হাজার নৌকা, প্রমোদতরী হাওরের যত্রতত্র ঘুরাফেরা করছে। যে জায়গায় মাছ থাকার কথা, পাখি থাকার কথা সে জায়গায় পর্যটকরা মাইক নিয়ে যাচ্ছেন। পলিথিন, প্লাস্টিক, ময়লা, আবর্জনা যত্রতত্র ফেলছেন। এতে মাছ, পাখি এখানে আর থাকবে না। এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না।
জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছেন। এছাড়া এই হাওড়ে হাজার হাজার হিজল করচ গাছ আছে। রাতের আঁধারে কিছু অসাধু ইজারদার বিলের জন্য সেগুলো কেটে নেয়। আমরা তাদের ধরতে চেষ্টা করছি। ধরতে পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-B










