শক্তিশালী পাসপোর্ট রাঙ্কিং - বাংলাদেশের উন্নতি, অবনতি ভারতের


ঢাকাঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের কার্যকারিতা ও শক্তির ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের জুনের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ বা বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিং প্রকাশিত হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর বিশেষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্য নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
২০২৬ সালের এই সর্বশেষ আপডেটেও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।
সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের রেকর্ড ১৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারছেন। যৌথভাবে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (টঅঊ)। এই তিন দেশের নাগরিকরা ১৮৮টি গন্তব্যে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন। ১৮৭টি গন্তব্য নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ সুইডেন।
এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১০ম স্থানে (১৮০টি গন্তব্য), যুক্তরাজ্য রয়েছে ৬ষ্ঠ স্থানে (১৮৪টি গন্তব্য) এবং কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে ৭ম স্থানে (১৮৩টি গন্তব্য) অবস্থান করছে।
ইনডেক্স অনুযায়ী, গতবছরের তুলনায় অবস্থানের উন্নতি হলেও বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখনও নিচের সারিতেই অবস্থান করছে। ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩ থেকে ৯৫ তম র্যাংকের ভেতরে ওঠানামা করছে (একই অবস্থানে একাধিক দেশ থাকায় মোট ১০১টি পজিশন নির্ধারণ করা হয়েছে)।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০। বর্তমানে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিক বিশ্বের মাত্র ৩৭টি গন্তব্যে বা দেশে কোনো আগাম ভিসা ছাড়া (ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার মাধ্যমে) ভ্রমণ করতে পারেন। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন কিংবা বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্টও (৩৮টি দেশ) র্যাংকিংয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। বিশ্ব তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে ৭ম দুর্বলতম।
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ (৫২তম, ৯২টি দেশ)। এরপরেই রয়েছে ভারত (৭৫ থেকে ৮০তম পজিশনে)। ভুটান ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ৮৫ ও ৯৩তম স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে কেবল নেপাল (৩৬টি দেশ), পাকিস্তান (৩১টি দেশ) এবং বৈশ্বিক তালিকার একেবারে তলানিতে থাকা আফগানিস্তান (২৩টি দেশ)। এ সূচকে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ভারত। দেশটির পাসপোর্টের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে ৮০তম স্থানে নেমে এসেছে। এর আগে গত মে মাসেও দেশটির অবস্থান ছিল ৭৮ নম্বরে।
সাম্প্রতিক এই অবনমনের ফলে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের মাত্র ৫৬টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের সুবিধা পাবেন। এই তালিকায় বেশির ভাগই রয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা এবং দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশে ভ্রমণের জন্য ভারতীয় নাগরিকদের আগের মতোই আগেভাগে ভিসা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইনডেক্স কোনো দেশের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ক্ষমতার পরিমাপক নয়, বরং এটি একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সহজলভ্যতা প্রকাশ করে। বাংলাদেশের জন্য এই স্কোর বৃদ্ধির অর্থ হলো ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা চুক্তি জোরদার করা।












