আমেরিকানদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার প্রস্তুতি এবং ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান


ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নজিরবিহীন মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার চরম আশঙ্কার মুখে গোটা অঞ্চলজুড়ে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত স্থান ত্যাগ বা দেশ ছাড়তে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের নতুন সামরিক হামলা চালাতে পারে—মার্কিন গণমাধ্যমে এমন খবরের পরেই শনিবার (১ আগস্ট) এই নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইট বাতিল, সাময়িক আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণের মারাত্মক বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের নির্দেশনায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরের বিভিন্ন মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরান এবং তার সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্রগোষ্ঠী পুরো বিশ্বজুড়ে আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থান বা মার্কিন নাগরিকদের ওপর নতুন করে হামলা চালাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের চরম সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাদের দেশ ত্যাগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত অথবা দ্রুত চলে যাওয়ার প্রস্তুত থাকা উচিত। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অবস্থানরত যেসব নাগরিক এই অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফর পুনর্বিবেচনা করার জন্য কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো একযোগে এই জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে নিজেদের নাগরিকদের আকস্মিক সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করা যেকোনো আঞ্চলিক রাষ্ট্র যুদ্ধের আগুনে ঝলসে যাবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে তীব্র হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
মার্কিন গণমাধ্যম'র তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ বোমারু হামলার পরিকল্পনা করছে। শুক্রবার ট্রাম্পের ক্যাবিনেট বৈঠকেও এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়, যদিও হোয়াইট হাউসের কিছু শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা এই ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। বৈঠকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, আমরা তাদের (ইরানিদের) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব এবং একপর্যায়ে তারা বাধ্য হয়ে বলবে যে আমরা আর এটা সহ্য করতে পারছি না।
এর আগে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী কঠোর পাল্টা হামলা সম্পন্ন করার কথা জানায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করে যে তারা ইরানের ইসলামি রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ডজনখানেক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে মার্কিন সেই হামলায় দুই বছরের এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। কয়েক দিনের আপেক্ষিক শান্তির পর চলতি সপ্তাহে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যৌথ সামরিক হামলা চালায়।
গত ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরু হয়। কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এপ্রিলে একটি অস্ত্রবিরতি হলেও জুনে তা ভেস্তে যায়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ সৃষ্টি করে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ করেছে, অন্যদিকে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সম্পত্তি ও হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।










