রাঙ্গামাটিতে দীর্ঘতম বুদ্ধমূর্তি দেখতে পর্যটকের ঢল

দেশের সর্ববৃহৎ বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায়। ১২৬ ফুট দীর্ঘ ‘সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তিটির জীবদান’ উৎসবকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী দানোৎসর্গ অনুষ্ঠান চলছে।
আজ সন্ধ্যায় (১৮ নভেম্বর) ফানুস উত্তোলন ও আকাশপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে তিনদিনের এ আয়োজনের সাঙ্গ হবে। জীবদান উৎসবের দ্বিতীয় দিন গতকাল (১৭ নভেম্বর) সকালে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের (ধর্মীয় গুরু) কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন পুণ্যার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের আচার-অনুষ্ঠান। একে একে অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদানসহ নানা দানোৎসর্গ করা হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে দায়ক-দায়িকারা এসেছেন। এছাড়া থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও পুণ্যার্থীরা এসেছেন বলে জানিয়েছে বিহার কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গতকাল দানোৎসর্গ অনুষ্ঠানে ধর্মদেশনা দেন রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়, সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গুরু বনভান্তের স্মৃতি রক্ষার্থে জুরাছড়ি উপজেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও এ ভিক্ষুরা (বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু) জুরাছড়িতে দেশের সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘতম সিংহশয্যা বুদ্ধমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেন ২০১২ সালে। ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বুদ্ধমূর্তিটি নির্মাণ শুরু হয়ে ২০২১ সালের শেষ দিকে শেষ হয়। ১৬-১৮ নভেম্বর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বুদ্ধমূর্তিটি উদ্বোধন করা হয়।
সুবলং শাখা বনবিহারের সাধারণ সম্পাদক প্রচারক চাকমা বলেন, সাধারণ মানুষের দেয়া অর্থেই আমরা বুদ্ধ মূর্তিটি নির্মাণ করেছি। পুরো কাজে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
-Biplob










