পর্যটকের পদচারণায় মুখর রাংগুনিয়া শেখ রাসেল পক্ষিশালা ও ইকোপার্ক

প্রকৃতির নয়নাভিরাম সবুজ পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা রাংগুনিয়া শেখ রাসেল পক্ষিশালা অ্যান্ড ইকো পার্ক পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।
ইকোপার্কের ফরেস্টার মো: হাসিবুর রহমান বলেন, আশানুরুপভাবে পর্যটকদের আগমন এখানে বেড়েছে। পর্যটকদের আরো আগ্রহী করে তুলতে এখানে বিনোদনের ব্যবস্থাসহ আনুষাঙ্গিক সকল কিছুই গড়ে তোলা হবে।
এ পার্কে দেশ-বিদেশের দর্শণার্থীদের আগমন দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃত্রিম লেকের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ক্যাবল কার। ক্যাবল কারে চড়ে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়ের প্রকৃতি মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনায়াসে পার্কে ভ্রমণ করে আনন্দে মেতে উঠছেন পর্যটকরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাংগুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বন বিটের হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর এলাকায় ২১০ হেক্টর সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিয়ে শেখ রাসেল পক্ষিশালা অ্যান্ড ইকো পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে।
২০১০-১৬ সাল পর্যন্ত পার্কের প্রথম পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। দেশী-বিদেশী পাখি, এক কিলোমিটার ক্যাবলকার (রোপওয়ে) স্থাপন, কৃত্রিম লেক, শিশুদের বিনোদন সুবিধা, বিবিধ প্রজাতির গাছ লাগিয়ে পার্কের শোভাবর্ধন, জীববৈচিত্র্যের উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইকো পার্কটি আকর্ষণীয় করে তোলা হয়।
ইকোপার্কের ফরেস্টার মো: হাসিবুর রহমান বলেন, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে ইকো পার্কটি বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে এবং দেশের বিরল ও বিপন্ন প্রায় প্রজাতির পাখি সংরক্ষিত হবে। এ ছাড়াও অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য সৃষ্টি এবং ইকোট্যুরিজম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পার্কটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ করা হবে।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, ১২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কের স্থাপন রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পের মধ্যে ১ কিলোমিটার রোপওয়ে (ক্যাবলকার) সম্প্রসারণ, ১৬ হাজার ঘনমিটার লেক খনন, ৭ হাজার আরসিসি পিলারসহ কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ২ হাজার বর্গ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৫ হাজার এইচবিবি রোড, ৩ লাখ ঘনমিটার এভিয়ারি নির্মাণ, আড়াই হাজার বর্গ মিটার পার্কিং এরিয়া উন্নয়ন, দেশী-বিদেশী পাখি ক্রয়, পাখির খাবার সংগ্রহ, ৭৫ হাজার ফল ও পশুখাদ্যের জন্য চারা রোপণ, ৬ হাজার সৌন্দর্য বর্ধনকারী চারা রোপণ, স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, পরামর্শক সেবা প্রদান করা হবে।
এ ছাড়াও পুরনো ক্যাবল কার মেরামত, পার্কের পাখির খাঁচা মেরামত, পার্কের প্রবেশদ্বারে আধুনিক গেট নির্মাণ, উন্নতমানের স্টাফ ব্যারাক, অফিস ভবন ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানের পার্ক নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উন্নত বিশ্বের আদলে নতুন রূপে পার্কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিদেশী একটি ক্যাম্পানি।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও ইকো পার্ক প্রকল্প পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কটি সিঙ্গাপুরের আদলে সাজানো হচ্ছে। নব রূপে পার্কের অবকাঠামো নির্মাণসহ নতুন ক্যাবল কার সংযোজন, কৃত্রিম লেক ও বিশ্বমানের পার্ক নির্মাণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বাংলাদেশ মনিটরকে বলেন, ইতিমধ্যেই প্রচুর পর্যটক এখানে আসছেন যা অদূরেই পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
-B










