ভরা মৌসুমেও খাঁ খাঁ করছে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র

ঢাকাঃ কোটা আন্দোলন ঘিরে অচলতা কাটার পরও দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বিরাজ করছে নীরবতা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ব্যবসায়ীরা পর্যটকের অপেক্ষায় থাকলেও দিন শেষে হতাশা নিয়েই তারা ঘরে ফিরছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও সিলেট, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, কুয়াকাটাসহ সব স্থানেই এখন পর্যটকশূন্যতায় হাহাকার চলছে। কবে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে তা-ও অনিশ্চিত।
প্রথমে বন্যা ও পরে কোটা আন্দোলন- এতে প্রায় তিন মাস ধরে পর্যটকশূন্য সিলেট। এতে করে অনেকের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম। অনেক হোটেল মালিক বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে পারেননি। সংযোগ বিচ্ছিন্ন এড়াতে তারা ধরনা দিচ্ছেন বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসে। চলমান এই সঙ্কট কাটাতে ব্যবসায়ীরা চান সরকারি প্রণোদনা। সরকারের সহযোগিতা না পেলে এ ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পর্যটক না থাকায় হোটেল অতিথি শূন্য। ব্যবসা একদম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মাস শেষে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দেয়া যাচ্ছে না। বকেয়া বিলের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি দিচ্ছে। এর ওপর রয়েছে ভ্যাটের চাপ। হোটেল স্টাফদের বেতন দেয়া যাচ্ছে না। তাদের ‘খোরাকি’ চালানোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা চললে হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এমদাদ হোসেন জানান, পর্যটন ব্যবসার সাথে হোটেল, ট্রান্সপোর্ট, রেস্টুরেন্ট, কুটিরশিল্পসহ অনেক খাত জড়িত। বন্যা ও আন্দোলনের কারণে সিলেট বিভাগে এ খাতে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে। এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।
একই অবস্থা কক্সবাজারে। হোটেল-মোটেলে চলছে মন্দাভাব। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা জানান, পর্যটকশূন্যতায় সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো খাঁ খাঁ করছে। দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে।
ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেলে-মোটেল, হোটেল-রেস্তরাঁগুলোরও একই অবস্থা। জনজীবনে এর চরম প্রভাব পড়েছে। পর্যটক একদমই নেই। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায় চরম ধস নেমেছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম নেওয়াজ জানান, পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে নেই কোনো পর্যটক। এমন অবস্থায় লোকসান গুনতে হচ্ছে হোটেল ব্যবসায়ীদের। তিনি আরো জানান, চলমান অস্থিরতায় পর্যটন খাতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতি বছর এ মৌসুমে রাঙ্গামাটি পর্যটকের পদভারে পাহাড় উৎসবমুখর থাকলেও এবার ভিন্ন চিত্র। একেবারে পর্যটকশূন্য রয়েছে তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটক সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান।
এ দিকে কুয়াকাটা সৈকতে দেখা নেই পর্যটকের। বুকিং নেই হোটেল-মোটেলগুলোতে। ফলে সেখানেও পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা।
-B










