দৃশ্যমান একমাত্র সীমান্ত সড়ক - পর্যটন বিকাশে যোগ হবে আরেক পালক

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার সীমান্তে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হচ্ছে দেশের একমাত্র সীমান্ত সড়ক।
কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দর্ঘ্যের সড়কটি। প্রথম পর্যায়ের ৩১৭ কিলোমিটার কাজ শেষ হতে আর কিছু সময় বাকি। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে সড়কটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ফুট উপরে। দুর্গম পাহাড়, কঠিন যাতায়াতব্যবস্থা। নেই কোনো পানি ও খাবারের ব্যবস্থা। নেই মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক। বর্ষাকালে পাহাড়ি এ জনপদ হয়ে ওঠে আরো বিভীষিকাময়। এমন বাস্তবতা মেনেই শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তে নির্মিত হচ্ছে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দর্ঘ্যের সীমান্তসড়ক।
সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের ১৬, ২০ ও ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বলেন, সীমান্ত সড়ক হওয়ার কারণে দুর্গম এলাকার জনগণ বর্তমানে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিসপত্র রাজস্থলী সদরে এনে বিক্রি করতে পারছে। শুধু রাজস্থলী উপজেলা নয় জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলার মানুষও এ সড়কের ফলে উপকৃত হবে। ভবিষ্যতে এই সড়ক পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সীমান্ত সড়কনির্মাণের ফলে স্থানীয়রা যেমন আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছেন তেমনি বর্তমান সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন তারা।
২৬ ইঞ্জিনিয়ার্স কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম মুহায়মিন বিল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলস প্রচেষ্টায় সীমান্ত সড়ক প্রকল্পটি গুণগত মান নিশ্চিত করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মাঝামাঝি প্রকল্পটি শেষ করা হবে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং এ প্রকল্পে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের মনোবল উন্নত করার জন্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারি রাঙ্গামাটির রাজস্থলী হয়ে জুরাছড়ির দুমদুম্যা সুইচাল এলাকায় সীমান্ত সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় সেনাসদর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-B










