টোয়াব নির্বাচন ২০২৪-২০২৬ স্থগিত, ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি

ঢাকাঃ দেশের পর্যটন-ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটরদের সংগঠন ‘ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)’-এর ২০২৪-২০২৬ নির্বাচন লক্ষ্যে আগামী ১ জুন ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। প্রকৃত পর্যটন ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা ও টোয়াব-এর সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্যে প্রজন্ম পরিষদ ও সাধারণ টোয়াব সদস্যগণ কয়েকটি কারণে এই নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানায়।
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় প্রজন্ম পরিষদের কর্মী ও সমর্থকগণ অনেকেই এবার নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের বিশ্বাস ছিল টোয়াব-এর পরিচালনা পর্ষদ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।
বাস্তবে তারা নির্বাচনকেন্দ্রিক গণসংযোগ এবং মাঠ-পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার পর ব্যাপক অসঙ্গতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার নিদর্শনের খোঁজ পেয়েছে।
২২ মে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন টোয়াবের প্রজন্ম পরিষদ ও সাধারণ সদস্যগণ।
তারা বলেন, পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
প্রজন্ম পরিষদ প্যানেল ও সাধারণ টোয়াব সদস্যগণ এবারের সাজানো নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ত্রুটিপূর্ণ ভোটার-তালিকা বাতিল করে প্রকৃত ট্যুর অপারেটর ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ভোটারতালিকা প্রণয়নের দাবি জানায়।
তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও অনুসন্ধানে যেসব অসঙ্গতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতির ভোটার ব্যাংক।
প্রজন্ম পরিষদ প্যানেল ও সাধারণ টোয়াব সদস্যগণের মতে, এবারের ভোটার তালিকায় অস্তিত্ববিহীন ও পর্যটন-সম্পৃক্ততাবিহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একশরও বেশি। অর্থাৎ এবারের ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়া মোট ৪৩৫টি ভোটারের মধ্যে তারা আগেই কম-বেশি শ-খানেক ভোটের ব্যাংক নিশ্চিত করে রেখেছে।
বিতর্কিত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি আরও একটি অনিয়ম, বলেন তারা। বিভিন্ন সময়ে দূতাবাস কর্তৃক যেসব হজ-ওমরাহ এজেন্সি বাতিল বা কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং অতীতে পর্যটনের নামের আদম পাচারের অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্ণিত করা হয়েছে, নিজেদের ভোটব্যাংক বড় করার স্বার্থে সে রকম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টোয়ার-এর সদস্য করা হয়েছে, যারা ঠাঁই পেয়েছেন ভোটার তালিকাতেও।
অপ্রকৃত ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্তি আরও একটি অভিযোগ। সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন সদস্য হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে, প্রজন্ম পরিষদ ও সাধারণ সদস্যগণের মতে, এদের বড় অংশ প্রকৃত পর্যটন ব্যবসায়ীই নয়।
ভিন্নপক্ষাবলম্বীদের প্রত্যাখ্যান আরও একটি অসঙ্গতি। ভিন্ন প্যানেলের সমর্থক বা কর্মী সন্দেহে প্রকৃত ও প্রথিতযশা বহু পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে অথবা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, বলেন সদস্যগণ।
T










