আকাশে উড়লো বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ


ঢাকাঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ 'এক্স-১'-এর প্রথম সফল টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে মার্কিন এভিয়েশন কোম্পানি 'হার্ট অ্যারোস্পেস'।
প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বিশালাকার উড়োজাহাজটি মাত্র ২৫ মিনিটে উড়তে খরচ করেছে মাত্র ৫ ডলার। আপাতদৃষ্টিতে উড়োজাহাজ যাত্রায় প্রতিবার জ্বালানি বাবদ এই অবিশ্বাস্য কম খরচের হিসাব পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে; তবে কি ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের টিকিট মেলে ধরার খরচ এক কাপ কফির দামেও নেমে আসবে?
যুক্তরাষ্ট্রের আপস্টেট নিউইয়র্কের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে হার্ট অ্যারোস্পেসের তৈরি এই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজটি। মাত্র ১জন পাইলট নিয়ে উড়াল দেওয়া 'এক্স-১' আকাশে প্রায় ১ হাজার ১শো ফুট উঁচুতে ওঠে এবং প্রায় ২৭ মিনিট ধরে সম্পূর্ণ ব্যাটারি শক্তিতে আকাশে উড়ে সফলভাবে ফিরে আসে।
১০৬ ফুট ডানা এবং ৭৬ ফুট দীর্ঘ এই যানটির আকার একেবারেই কোনো ছোট্ট গবেষণাগার-পরীক্ষার মতো নয়; বরং এটি সাধারণ একটি মাঝারি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের সমান। খালি অবস্থায় একটি সাধারণ স্কুল বাসের সমান ওজনের এই আকাশযানটির সফল উড্ডয়ন কেবল বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের সক্ষমতাই প্রমাণ করেনি বরং পরিবেশবান্ধব উড়োজাহাজ চলাচলের নতুন যুগের সূচনা চিহ্নিত করেছে।
তবে আকাশে ওড়ার এই ৫ ডলার বিদ্যুৎ খরচ থেকে এখনই সাধারণ যাত্রীদের উড়োজাহাজের টিকিটের দাম পানির দরে নেমে আসবে, এমনটি ধরে নেওয়া সঠিক হবে না।
গবেষক ও এভিয়েশন বিশ্লেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই পাঁচ ডলারের খরচটি কেবল উড়োজাহাজটি আকাশে ওড়ানোর সময়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব।
একটি সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচলের নেপথ্যে পাইলট ও কর্মীদের বেতন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, বিমানবন্দর ব্যবহারের ফি, সার্বিক বীমা, ব্যাটারির আয়ু ও তা পরিবর্তন বা চার্জিং ব্যবস্থা এবং বিমান তৈরির বিশাল বিনিয়োগ যুক্ত থাকে। ফলে জ্বালানি খরচ তলানিতে নামলেও যাত্রীদের চূড়ান্ত টিকিটের দামে একরাতেই বড় পরিবর্তন আসবে না।
তা সত্ত্বেও জ্বালানি ব্যবহারে এই অভূতপূর্ব সাশ্রয় যে আগামী দিনের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
হার্ট অ্যারোস্পেসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডার্স ফোর্সলুন্ড জানান, বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক এয়ারক্রাফটগুলোর এই ন্যূনতম অপারেটিং খরচ সামগ্রিকভাবে এয়ারলাইনসগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামোর ছবিই বদলে দেবে। মূলত এই প্রযুক্তিগত অর্জনকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানিটি তাদের মূল লক্ষ্য 'ইএস-থার্টি' নামের একটি ৩০ আসনের হাইব্রিড-ইলেকট্রিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে, যা ২০৩১ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক সার্ভিসে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
হার্ট অ্যারোস্পেসের দাবি অনুযায়ী, আধুনিক এই হাইব্রিড উড়োজাহাজ চালু হলে প্রচলিত আঞ্চলিক উড়োজাহাজগুলোর তুলনায় পরিচালন সংক্রান্ত খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। বিদ্যুৎ চালিত ইঞ্জিনের কারণে কম জ্বালানি খরচ, কম জটিল যন্ত্রাংশ হওয়ায় মেরামতের ঝক্কি হ্রাস এবং উচ্চ নির্ভরযোগ্যতার দরুন সামগ্রিক খরচ একধাক্কায় অনেকটা নিচে নেমে আসবে।
ইতিমধ্যেই ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, এয়ার কানাডা এবং জেএসএক্স-এর মতো আন্তর্জাতিক বড় বড় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো এই প্রযুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।










