প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার ৭ বিমানবন্দর বন্ধ


ঢাকা : ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চল। তীব্র কম্পনে মুহূর্তেই ধসে পড়ে ৪ তলা ভবন সহ আরও অনেক ভবন, ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
পশ্চিম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ (এরোসিভিল) ৭টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে।
প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি ভবন। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ দিয়েছে সহায়তার আশ্বাস। দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী,ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
যে সাতটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে সেগুলো হলো পেরেইরার মাতেকানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মানিসালেসের লা নুবিয়া, আরমেনিয়ার এল এদেন, কিবদোর এল কারানিয়ো, কার্তাগোর সান্তা আনা, বুয়েনাভেন্তুরার হেরার্দো তোবার লোপেস এবং কালির আলফোনসো বনিয়া আরাগন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
এর মধ্যে কালি বিমানবন্দরে সেদিন প্রায় ১৫০টি ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। এরোসিভিল এই বিমানবন্দরটিতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর দেওয়ার পর তা বন্ধের তালিকায় যুক্ত করা হয়, ফলে এটিই এখন পর্যন্ত বন্ধ হওয়া সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর।
এরোসিভিল জানিয়েছে, সারা দেশে দশটির বেশি বিমানবন্দরে কমবেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে যাতায়াতের ফ্লাইট থাকা যাত্রীদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলোতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সেবা সংস্থার তথ্যমতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৫০ মাইল পশ্চিমে চোকো প্রদেশের প্রত্যন্ত জনপদ সান হোসে দেল পালমারে।
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন এবং জানিয়েছেন, সান হোসে দেল পালমারে ত্রাণ কার্যক্রমের দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কমান্ড কেন্দ্র গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজধানী বোগোতায় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র কার্লোস এফ গালান।
কর্মকর্তারা এটিকে কলম্বিয়ার ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত এই কম্পন অনুভূত হয়েছে, যে দেশটি গত জুনে নিজেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কবলে পড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির মুখোমুখি হয়েছিল।










