নতুন রূপে ১২৪ বছরের পুরনো ‘ফ্ল্যাটআয়রন বিল্ডিং’


ঢাকাঃ নিউইয়র্কের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা ফ্ল্যাটআয়রন বিল্ডিং নতুন রূপে ফিরছে। এক সময়ের অফিস ভবনটি এখন বিলাসবহুল আবাসিক ভবনে রূপান্তর করা হচ্ছে। সংস্কারকাজও প্রায় শেষ।
সংস্কার শেষে ভবনটিতে মোট ৩৬টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিট থাকবে। এর মধ্যে তিন শয়নকক্ষের একটি আবাসনের দাম শুরু হবে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়ে। সবচেয়ে দামি পাঁচ শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে এর চেয়ে বেশি দামের আবাসনের সংখ্যা খুবই কম।
ত্রিভুজাকৃতির নকশার কারণে ফ্ল্যাটআয়রন বিল্ডিং বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সরু সামনের অংশ, অলংকৃত স্তম্ভ ও অনন্য স্থাপত্যশৈলী ভবনটিকে নিউইয়র্কের প্রতীকগুলোর একটি করে তুলেছে। ১৯০২ সালে নির্মিত এ ভবন দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। তবে গত সাত বছর সংস্কারকাজের কারণে পুরো ভবনটি ঢাকা ছিল মাচা দিয়ে।
ফ্ল্যাটআয়রন বিল্ডিংয়ের সামনে ছোট একটি ত্রিভুজাকৃতির পার্ক রয়েছে। আগে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক সেখানে এসে ভবনের ছবি তুলতেন। কিন্তু সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর ও কভিড-১৯ মহামারীর সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যায়।
ফ্ল্যাটআয়রন নোম্যাড পার্টনারশিপের সভাপতি জেমস মেথাম বলেন, ‘ভবনের বাইরের মাচা সরতে শুরু করার পর পর্যটকরা আবার ফিরে আসছেন। এতে আশপাশের দোকান, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও উপকৃত হচ্ছে।’
শিকাগোভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফুলার কোম্পানির কার্যালয় হিসেবে ভবনটি তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন সময় পোশাক, খেলনা, প্রকাশনা ও ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠানের অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়।
সবশেষে ম্যাকমিলান পাবলিশিং ২০১৯ সালে ভবনটি ছেড়ে দেয়। এরপর মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতায় কয়েক বছর ভবনটি খালি পড়ে ছিল। ২০২৩ সালে বর্তমান মালিকরা এটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়ামে রূপান্তরের কাজ শুরু করেন।
ফ্ল্যাটআয়রনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর ত্রিভুজাকৃতির নকশা। সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার। ফলে এমন আকৃতির ভেতরে বিলাসবহুল আবাসনের নকশা তৈরি করা সহজ ছিল না বলে জানান স্থপতিরা।
নকশা প্রতিষ্ঠান স্টুডিও সোফিল্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম সোফিল্ড বলেন, ‘ভবনের বিশেষ আকৃতিই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। তাই নতুন নকশা করার সময় ভবনের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার দিকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, সংস্কারের সময় ভবনের বাইরের চুনাপাথর, ইট ও টেরাকোটার অলংকার যতটা সম্ভব আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো টেরাকোটার অংশ নতুন করে তৈরি করে হাতে বসানো হয়েছে।
এছাড়া ভবনের এক হাজারের বেশি পুরনো জানালাও বদলে দেয়া হয়েছে। নতুন জানালাগুলো শব্দ কমাতে সক্ষম ও আগের তুলনায় বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী বলে দাবি স্টুডিও সোফিল্ডের।





