ভূমিকম্পের পর স্বাভাবিক হচ্ছে কলম্বিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল


ঢাকাঃ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিমানবন্দরগুলো কারিগরি পরিদর্শন শেষে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে বলে দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ (এরোসিভিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট)পশ্চিম কলম্বিয়ায় রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে যাতে ২৪০ জনের মৃত্যু এবং ৬ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েয়া দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে উদ্ধার তৎপরতা সরাসরি তদারকি করছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার কাজ এখনো চলছে।
এরোসিভিল জানায়, অবকাঠামো, পরিচালনাগত নিরাপত্তা, আকাশপথ পরিষেবা ও অগ্নিনির্বাপণ (এসএআর) দলের নিরবচ্ছিন্ন কাজের মাধ্যমে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রেখে বিমানবন্দরগুলো ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হচ্ছে।
যেসব বিমানবন্দর চালু হয়েছে
কালি শহরের আলফোনসো বোনিয়া আরাগন বিমানবন্দর পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে কোনো ক্ষতি বা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কিবদো শহরের এল কারানিও বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পুরোদমে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করেছে, স্থাপনার অবস্থা সন্তোষজনক পাওয়ার পর।
আরমেনিয়া শহরের এল এদেন বিমানবন্দরও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চালু হয়েছে, তবে কাঠামোগত ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে এটি অন্য উড়োজাহাজের বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
বুয়েনাভেন্তুরার হেরার্দো তোভার লোপেস বিমানবন্দর এবং মানিসালেসের লা নুবিয়া বিমানবন্দর অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চালুর অনুমতি পেয়েছে। মানিসালেসে রানওয়ে ও চলাচল এলাকা নিরাপদ প্রমাণিত হলেও নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ফাটল ও জানালা ভাঙার কারণে মেরামতকাজ চলছে।
যেসব বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ এখনও বহাল
পেরেইরার মাতেকানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনো বন্ধ। শুধু রাষ্ট্রীয়, চিকিৎসা, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার ফ্লাইট চলছে। রানওয়েতে ফাটল, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিচ্ছিন্নতা এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের কাঠামোগত পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
কার্তাগোর সান্তা আনা বিমানবন্দর শুধু রাষ্ট্রীয় ও জরুরি-মানবিক সেবার উড়োজাহাজের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।
পোপায়ানের গিয়ের্মো লিয়ন ভালেনসিয়া বিমানবন্দর আগ্নেয়গিরির ছাই জমার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
দেশটির আকাশপথ নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় আকাশসীমা পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং যোগাযোগ, নজরদারি, দিকনির্দেশনা ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
এরোসিভিল যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিতে এবং শুধু সরকারি দাপ্তরিক মাধ্যম থেকে তথ্য নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানিয়েছে।










