পর্যটক টানছে সাইবানি বিবির দরগা

ঢাকা: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নওদাবগা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুদ্র আকৃতির দুটি দরগা। আর এই দরগা দুটিই পরিচিত সাইবানি বিবির দরগা নামে।
চারপাশে ঘন সবুজ অরণ্য ঘেরা পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে দরগাগুলো। একটির দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ও প্রস্থ ৮ ফুট। অপরটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৮ ফুট। একটিতে বড় ও উঁচু আকৃতির গম্বুজ থাকলেও অন্যটিও প্রায় গোলাকার। দুটি দরগাতেই টেরাকোটার (পোড়ামাটির ফলক) কাজ করা। এর তিন পাশেই রয়েছে ছোট ছোট প্রবেশপথ। দুই থেকে তিনজন অবস্থান করার মতো জায়গা ভেতরে। মোঘল স্থাপত্যরীতি অনুসারে নির্মিত এগুলো।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু রুটে ট্রেন ১ নভেম্বর থেকে
দেখলেই বোঝা যায়- অতীতে এর জৌলুস ছিল প্রখর। সৌন্দর্যে ছিল অপরূপ। প্রায় চারশ’ বছর পর এখনো তার জৌলুস টিকে আছে। তবে এখন পলেস্তার উঠে যাচ্ছে। ইটে লোনা ধরেছে। এরপরও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি।
জানা যায়, বিবি সাইবানির দরগা পুরাতন ইবাদতখান নামেও পরিচিত। সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ আমান উল্লাহ টেপার পূর্ব পুরুষ আনার আকন্দ সোনাতলার নওদাবগায় এসে বসবাস শুরু করেন। আনার আকন্দের পুত্রবধূ বিবি সাইবানি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মহিলা ছিলেন। বেশিভাগ সময় ইবাদত-বন্দেগি এবং আধ্যাত্মিকতা চর্চায় ব্যস্ত থাকতেন তিনি। এজন্য ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় দশকে মোঘল রীতিতে মাটি থেকে প্রায় দুই ফুট উঁচু ইটের ঢিবির উপর ছোট্ট পরিসরের দুইকক্ষ বিশিষ্ট দরগাটি নির্মাণ করা হয়। বিবি সাইবানির স্বামী দেওয়ান আকন্দ (আনার আকন্দের ছেলে) এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও পড়ুন: এক দশকে সুন্দরবনের আয়তন কমেছে প্রায় অর্ধেক
দরগা ঘুরতে আসা আশরাফুল আলম বলেন, আমি গাইবান্ধা থেকে ঘুরতে এসেছি। ইবাদতখানা নাকি কোনো দরগা বোঝা মুশকিল। তবে এটা মোঘল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। এটি যত্নে রাখা হলে আরো পর্যটক টানতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।
সোনাতলার জোরগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, আমাদের এলাকায় এই একটাই দর্শনীয় স্থান। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসেন। ছবি তোলেন। মাসে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আসেন।
ভ্রমণপিপাসুরা চাইলেই অনন্য নিদর্শনটি ঘুরে দেখতে পারেন। এজন্য রাজধানী ঢাকা থেকে বগুড়ায় এসে নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে এই দরগায় গাবতলী-সোনাতলা সড়ক ধরে সরাসরি যাওয়া যাবে অটোরিকশায় কিংবা অন্য কোনো যানবাহনে।
-B










