আধিপত্য হারাচ্ছে ডলার

বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রা হিসেবে ডলারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। লেনদেন থেকে রিজার্ভ সবক্ষেত্রেই ডলারের প্রচলন। তবে ক্রমান্বয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে ডলারের পরিমাণ কমছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সূত্রে সম্প্রতি এ তথ্য জানা গেছে। ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ডলারের ব্যবহার কমে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। ডি-ডলারাইজেশন বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর যে উদ্যোগ, সেটির গতি বাড়ায় মুদ্রাটির আধিপত্য কমছে।
আইএমএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর গ্রিনব্যাকের অংশ ৭০ শতাংশ কমেছে। রিজার্ভ কারেন্সির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ডলার। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরো। ইউরোর অংশ কমে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রিজার্ভে জাপানি ইয়েনের অনুপাত গত প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৩ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে চাইনিজ ইউয়ান, ব্রিটিশ পাউন্ড, কানাডিয়ান ডলার ও সুইস ফ্রাঁর অনুপাতে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল মেসেজিং পরিষেবা সুইফটের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা হিসেবে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে রেনমিনবি। আন্তঃসীমান্ত পর্যায়ে ঋণগ্রহণে ইউয়ানের ব্যবহারও বেড়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, আর্জেন্টিনাসহ বিদেশী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ৩০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় মুদ্রা অদলবদল করছে পিপলস ব্যাংক অব চায়না।
আন্তঃসীমান্ত লেনদেনে ইউয়ানের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ডলার থেকে চীনের দূরে সরে আসার বিষয়টিকে প্রতিফলিত করে। সুইফটের তথ্যানুযায়ী, রেনমিনবির ব্যবহার বাড়াতে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা সফল হতে যাচ্ছে।
ইউক্রেন সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা রাশিয়াকে পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এছাড়া দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্যিক লেনদেনে ডলারের পরিবর্তে দেশগুলো নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকছে। ইউরোপীয় ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ইবিআরডি) এক সতর্কবার্তায় জানায়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাণিজ্যিক লেনদেনে রাশিয়া যেভাবে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়াচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডলারের আধিপত্যকে প্রভাবিত করবে। অর্থনীতিবিদরাও ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে পশ্চিমা বাণিজ্য বিধিনিষেধ গ্রিনব্যাকের ব্যয়ে বিশ্বব্যাপী ইউয়ানের ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি কতটা মন্থর, সে সম্পর্কে ধারণা পেতে সবার নজর এখন মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) সূচকের দিকে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপে পিসিইকে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে ফেড। পেপারস্টোনের গবেষণাপ্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এখন একতরফা মনে হচ্ছে। প্রয়োজন দেখা দিলে ফেড সুদহার কমিয়ে আনবে।’ ফেড কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের কাজ শেষ হয়নি। ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের শেষ ধাক্কাটাই সবচেয়ে কঠিন পর্ব। পিসিই যখন ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমতে শুরু করবে, তখন সুদহার কমানো হতে পারে।
-B










