বেনাপোল বন্দরে ৪ স্ক্যানিং মেশিনের ৩টিই অচল

যশোরের বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্য পরীক্ষা এবং পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মালপত্র তল্লাশির জন্য বসানো হয়েছিল চারটি স্ক্যানিং মেশিন। এগুলোর মধ্যে তিনটিই বর্তমানে অচল। বিকল্প হিসেবে পণ্যের বস্তা ও মালপত্রের ব্যাগ খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
অন্যদিকে অচল স্ক্যানিং মেশিন ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে চোরাচালানের আশঙ্কা বেড়েছে। ৩০ নভেম্বর বেনাপোল দিয়ে আতা ফল ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে পার্সিমন ফল। যার চালান আটক করেছে বেনাপোল কাস্টমস।
আরও পড়ুন: মোংলা বন্দরের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
স্ক্যানিং মেশিন তদারকিতে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস বলছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কাস্টমস বলছে, স্ক্যানিং মেশিন দ্রুত ঠিক করতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।
বন্দর ও কাস্টমসে স্ক্যানার মেশিন তদারকিতে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটসের বেনাপোলের কর্মকর্তা বনি আমিন বলেন, ‘স্ক্যানিং মেশিন অচল হওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’
বেনাপোল কাস্টমের যুগ্ম কমিশনার সাফায়েত হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চিঠি পেয়েছি। স্ক্যানিং মেশিন দ্রুত ঠিক করতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবস্থা করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আপাতত সবাইকে নয়, সন্দেহভাজনদের মালপত্র ম্যানুয়ালি তল্লাশি করা হচ্ছে।’
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে চীনের উপহার হিসেবে পাওয়া একটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হয় বন্দরের বাইপাস সড়কের পণ্য প্রবেশদ্বারে। প্রায় ১০ কোটি টাকা দামের অত্যাধুনিক মেশিনটি পণ্যবাহী ট্রাকে আসা রাসায়নিক, মাদক, অস্ত্র ও মিথ্যা ঘোষণার পণ্য শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া ইমিগ্রেশন কাস্টমস রুটে চোরাচালান রোধে এনবিআরের অর্থায়নে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে আরো তিনটি স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়।
ভারতীয় ট্রাকচালক হরজিৎ রায় জানান, ভারত থেকে তিনি পোশাক নিয়ে এসেছেন দুদিন আগে। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের মোবাইল স্ক্যানিং মেশিনটি বন্ধ থাকায় সেগুলো খালাসে ঝামেলা হচ্ছে। বেড়েছে ভোগান্তি ও হয়রানি।
পাসপোর্টধারী যাত্রী আবদুর রহিম বলেন, ‘কাস্টমস ইমিগ্রেশনে স্ক্যানিং মেশিন বন্ধ থাকায় নিরাপত্তা ঘাটতির পাশাপাশি হয়রানি বেড়েছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই অনেকের ব্যাগ খুলে মালপত্র তল্লাশি করা হচ্ছে। চোরাচালানিরাও সক্রিয় হয়েছে।’
আমদানিকারক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘স্ক্যানিং ছাড়া বিকল্পভাবে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ; কিন্তু সেখানে হয়রানি ও নিরাপত্তা ঘাটতি থাকছে। দ্রুত স্ক্যানিং কার্যক্রম সচল হলে সেটি সবার জন্য ভালো।’
এদিকে স্ক্যানিং মেশিনগুলো কাস্টমসের পক্ষে পরিচালনা করে আসছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস। কয়েক মাস স্ক্যানিং মেশিনগুলোয় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গেলেও গত সপ্তাহ থেকে একেবারে অচল। আর দুই মাস অচল কাস্টমস ইমিগ্রেশনের দুটি স্ক্যানার, যা মেরামত করতে প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন। চুক্তি অনুযায়ী বড় অংকের ব্যয় কাস্টমস বহন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় স্ক্যানিং মেশিন তিনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। এতে পণ্য খালাস করতে না পারায় বাণিজ্য ব্যাহতের পাশাপাশি চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মাহামুদ বিপুল বলেন, ‘বাণিজ্য নিরাপদ রাখতে স্ক্যানিং কার্যক্রম চালু করা জরুরি। এছাড়া জরুরি পণ্য খালাস করতে দেরি হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন বিঘ্ন ঘটছে।
-B










