পর্যটনে মন্দা সত্ত্বেও থিম পার্কে ডিজনির রেকর্ড ব্যবসা


ঢাকা : যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশী পর্যটক আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও কোম্পানিটির ‘এক্সপেরিয়েন্স’ বিভাগ আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ডিজনির থিম পার্ক, প্রমোদতরী বা ক্রুজ লাইন, রিসোর্ট ও অন্যান্য পণ্যভিত্তিক সেবা খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার (১০ বিলিয়ন ডলার)। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে টানা ছয়টি প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য এটি সর্বোচ্চ আয়ের একটি রেকর্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজনির এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এ ইতিবাচক আর্থিক সাফল্যের ঘোষণার পর পরই পুঁজিবাজারে ডিজনির শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি বাড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জশ ডি’আমারো বলেন, ‘অর্থনৈতিক নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক ভালো পারফর্ম করছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও থিম পার্কগুলোয় দর্শনার্থীর সমাগম ও মাথাপিছু ব্যয় দুটোই বেড়েছে।’
অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক পর্যটন খাতের চিত্র ছিল উল্টো। গত মাসেই ডিজনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান কমকাস্ট তাদের থিম পার্কগুলোয়, বিশেষ করে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল।
ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের প্রবৃদ্ধি হলেও প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই বিদেশী পর্যটক আসার হার কমেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটক কমে যাওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে কঠোর ভ্রমণ নীতি, উচ্চ ভিসা ফি এবং দেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোয় অতিরিক্ত তল্লাশি কার্যক্রম অন্যতম। এছাড়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগে অনেক বিদেশী পর্যটকই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ভ্রমণ তালিকার বাইরে রাখছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটক কমলেও ডিজনি দেশীয় বা অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে ব্যবসায়িক গতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থবিষয়ক কর্মকর্তা (সিএফও) হিউ জনস্টন জানান, ডিজনির পার্কগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দর্শনার্থী আগমন ৩ শতাংশ এবং তাদের মাথাপিছু খরচ ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর ‘ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডে’ রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছেন।
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে দর্শনার্থীকে আকৃষ্ট করতে ডিজনি বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। তাদের ‘কুল কিডস সামার’ ক্যাম্পিংয়ের আওতায় শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন, ড্যান্স পার্টি, বিশ্রাম কেন্দ্র এবং হোটেলের অতিথিদের জন্য ওয়াটার পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ডিজনি জনপ্রিয় বেশকিছু পুরনো রাইড নতুন করে সাজিয়েছে।
পর্যটন বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘মিকিভিজিট ডটকম’-এর প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন ডয়েল জানান, নানা ধরনের মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে ডিজনি পরিবারভিত্তিক দর্শনার্থীদের পার্কে আসতে উৎসাহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ডিজনিল্যান্ডেও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ মূল্যছাড় দেয়া হয়। পার্কের পাশাপাশি ডিজনির ক্রুজ লাইনে নতুন দুটি প্রমোদতরী যুক্ত হওয়ায় যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে ডিজনির রিসোর্ট ও অবকাশকালীন ভ্রমণ খাতের আয় ১৭ শতাংশ বেড়ে ২৭৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে সময়োপযোগী বিপণন কৌশলের কারণে বিশ্বজুড়ে মন্দা সত্ত্বেও বিনোদন খাতে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ডিজনি।










