লন্ডনে চীনের বিশাল দূতাবাস নির্মাণে রায় দিল আদালত


ঢাকা : লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল চীনা দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ব্রিটিশ আদালত। একই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছে।
শুক্রবার(৩১ জুলাই) লন্ডনের হাইকোর্ট ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর দায়ের করা আইনি চ্যালেঞ্জটি খারিজ করে দেয়।
সংগঠনটি দূতাবাস নির্মাণের বিরোধিতা করে আদালতে রিট দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ, দূতাবাসটি নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মানবাধিকারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।দুই বিচারক ভার্চুয়ালি শুনানিতে বাসিন্দাদের দাবিগুলো খারিজ করে দিয়ে জানান, আবাসন মন্ত্রী এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি মাসে পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়ে আইনসম্মত কাজই করেছে।
‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর কাছে অবস্থিত দুই শতাব্দীর পুরনো ‘রয়্যাল মিন্ট কোর্ট’ এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের জন্য চীনের পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফরের ঠিক আগে। প্রস্তাবিত স্থানটির কাছাকাছি প্রায় ১০০টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ওই আবাসিক সংগঠনটি বলেছিল, দূতাবাসের উপস্থিতির ফলে সন্ত্রাসী হামলা ও বিক্ষোভ দমনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়া তারা দাবি করেছিল, এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো এবং চীনের কঠোর বা দমনমূলক আইন কার্যকর করার চেষ্টা করা হতে পারে। সংগঠনটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক দায়মুক্তির(ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি) কারণে যুক্তরাজ্য সরকার সেখানে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকর করতে পারবে না।
বাসিন্দা সংগঠনের প্রধান লুক পোলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিং হয়তো ভাবছে এই রায়ই শেষ কথা। কিন্তু তা নয়। আপিল করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারা যদি আশা করে আমরা মাথা নত করব এবং আমাদের রাজধানীকেই সিসিপি (চীনা কমিউনিস্ট পার্টি)-র ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হতে দেব, তবে এই বিশাল দূতাবাসের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিরোধিতার শক্তিকে তারা পুরোপুরি ভুল বুঝেছে।
বেইজিং ২০১৮ সালে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এর পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রয়্যাল মিন্ট’-এর জায়গাটি প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেছিল। ২০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই স্থানটিতে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম দূতাবাস কমপ্লেক্স গড়ে উঠতে যাচ্ছে।
আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বরো কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় তারা বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো ‘সতর্কতা ও বিবেচনার সঙ্গে’ আমলে নিয়েছিল।










