সুরমা তীরের পর্যটনে আবারও ধস

ঈদের পর সিলেটের সবক'টি পর্যটন কেন্দ্র ছিল জমজমাট, ছিল পর্যটকে মুখর। করোনার কারণে দুই বছরের ক্ষতির পর মুখে হাসিও ফুটেছিল পর্যটন ব্যবসায়ীদের। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন তাঁরা।
উজান থেকে নেমে আসা টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে সিলেটের সবকটি অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় এই অঞ্চলের যে কয়েকটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পর্যটন খাত। বন্যার কারণে এসব এলাকার পর্যটনে ভাটা পড়েছে। পর্যটন খাতে সরাসরি সম্পৃক্ত এসব অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন থেকে এখনো তাদেরকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্যমতে দেশে পর্যটন খাতে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ মানুষ। পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেট বিভাগে এ খাতে কাজ করছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ। এরা শুধু নিজেদের পরিবারের জন্য ভূমিকা রাখছেন না, ভূমিকা রাখছেন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও। পর্যটকদের আগমনে আয় বাড়ে অন্যান্য খাতের লোকেরও।
বন্যার কারণে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এলাকা, গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও পানতুমাইয়ে পর্যটক সমাগম নেই বললেই চলে। ধস নেমেছে সিলেটের পর্যটন ব্যবসায়। একই অবস্থা সুনামগঞ্জেও। টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী বিলাসবহুল ট্রলারের মালিকরা হয়ে পড়েছেন বেকার।
ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। ঘাটে কয়েকটি নৌকা রয়েছে তাঁর। পাশেই আছে খাবারের হোটেল। সাইফুল বললেন, ১১ মে থেকে তাঁদের এখানে পর্যটক আসছেন না। করোনার পর বন্যা- এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লাগবে তাঁদের।
ট্রাভেলার্স অফ গ্রেটার সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা শেখ রাফি বলেন, চলমান এই বন্যার কারণে আমাদের পর্যটন খাতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। গত দুই বছর থেকে এমনিতেই করোনার কারণে আমাদের সিলেট অঞ্চলের পর্যটন খাত অনেক পিছিয়ে গেছে। তার মধ্যে আকস্মিক এ বন্যা আমাদেরকে আরও পেছনে নিয়ে গেল। বন্যার কারণে আমাদের শিডিউলের অনেকগুলো টুর প্যাকেজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
""ঈদ পরবর্তী সময়ে সিলেট অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। সিলেটের বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টরা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। কিন্তু বন্যার কারণে যেন সব কিছু থমকে গেছে" বলেও তিনি জানান।
জাফলং ফটোগ্রাফার সমবায় সমিতির সভাপতি নিলয় পারভেজ সোহেল বলেন, পর্যটক না আসায় আমরা একেবারেই বেকার হয়ে পড়েছি। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যার কারণে পর্যটকরা ভ্রমণে না আসায় তাঁদের বেচাকেনা একেবারে নেই বললেই চলে।
জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. রতন শেখ বলেন, পর্যটক না আসায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন।
-B










