গ্রীষ্মেও চাঙ্গা আমিরাতের পর্যটন খাত


ঢাকাঃ হোটেল খাতের রেকর্ড আয়কে পুঁজি করে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মেও গতি ধরে রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন।
কেনাকাটা, ঐতিহ্যবাহী মেলা ও পারিবারিক বিনোদনের নানা আয়োজনে গরমেও প্রতিদিন বাড়ছে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সমাগম।
দেশটির পর্যটন খাত ২০২৫ সালে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করে। গত বছর আমিরাতের হোটেলগুলোয় সব মিলিয়ে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার অতিথি অবস্থান করেন। ফলে হোটেল খাতের মোট রাজস্ব পৌঁছে ৪ হাজার ৯২১ কোটি আমিরাতি দিরহামে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।
গত বছরের ব্যবসায়িক সাফল্য ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন পর্যটনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে গ্রীষ্মের জন্য বিশেষ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে আমিরাত। বছরের এ সময়ে পর্যটন কার্যক্রম সচল রাখতে সাংস্কৃতিক মেলা ও বিপণন উৎসবের ওপর বাড়তি নজর দেয়া হচ্ছে।
আবুধাবিতে আয়োজিত খেজুর মেলাগুলো স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি ২২তম লিওয়া ডেট ফেস্টিভ্যালে প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত হন। পাশাপাশি আল আইন ডেট ফেস্টিভ্যালে সাতদিনেই হাজির হন প্রায় সাড়ে ৭৪ হাজার দর্শনার্থী।
আল ওয়াতবা ফেস্টিভ্যাল স্থানীয় কৃষিপণ্য ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি খামারিদের সরাসরি আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।
আবুধাবির সাদিইয়াত দ্বীপে ল্যুভর আবুধাবি ও ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম পরিবারভিত্তিক দর্শনার্থীকে লক্ষ্য করে তৈরি করা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে ইয়াস আইল্যান্ডের থিম পার্কগুলো তরুণ ও বিনোদনপ্রেমীদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দুবাই সামার সারপ্রাইজ কেনাকাটা ও ইনডোর বিনোদনের মাধ্যমে ব্যবসা সচল রেখেছে। বিভিন্ন মলে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পাশাপাশি শারজাহর দশম আল ধাইদ ডেট ফেস্টিভ্যালে দর্শনার্থী গেছেন ৩৫ হাজারের বেশি। লিওয়া আজমান ডেটস অ্যান্ড হানি ফেস্টিভ্যালও খুচরা ব্যবসা ও পরিবহন খাতকে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করছে।
পর্যটন খাতের চাঙ্গা ভাব সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল, পরিবহন ও খুচরা বিক্রেতাদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বমানের বাজার তৈরি হচ্ছে।










