এএআইবির প্রাথমিক রিপোর্টে মিললো এয়ার ইন্ডিয়ার বিপত্তির সূত্র


ঢাকাঃ গত ৪ আগস্ট ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ভয়াবহ বিপত্তি ঘটে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে উড়োজাহাজটির ৩টি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হয়ে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হয়ে যায়।
উড়োজাহাজটি হঠাৎ ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে আবার ২৯২ ফুট নিচে নেমে এলে ২৪ জন আহত হন। এআই ২৩৭৯ ফ্লাইটের এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে।
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানায়, ভিটি-ইএক্সও নিবন্ধনের ২০১৮ সালে তৈরি উড়োজাহাজটিতে ১৩৭ যাত্রী, ৬ কেবিনকর্মী ও ২ পাইলট ছিলেন।
ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে সবুজ হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যাওয়ার পর মাত্র ৪ সেকেন্ডের মধ্যে নীল ও হলুদ ব্যবস্থাও বিকল হয়। এয়ারবাস এ-৩২০-তে ৩টি পৃথক হাইড্রোলিক ব্যবস্থা থাকে, যা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ পরিচালনায় শক্তি সরবরাহ করে। ৩টির একসঙ্গে বিকল হওয়া অত্যন্ত বিরল।
ঘটনার সময় সিটবেল্টের সংকেত বন্ধ থাকায় আকস্মিক উচ্চতা পরিবর্তনে যাত্রী ও কেবিনকর্মীরা ছিটকে পড়ে ছাদ ও ওভারহেড বিনে আঘাত পান। কেবিনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রথমে নীল, পরে হলুদ ও সবুজ হাইড্রোলিক ব্যবস্থা সচল হয়ে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সময় সহকারী পাইলট উড়োজাহাজটি চালাচ্ছিলেন। পরে প্রধান পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন এবং দিল্লি যাত্রা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পথে কাছের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়নি।
কারণ এখনো অজানা
৩টি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন এত দ্রুত বিকল হয়েছিল এবং কীভাবে দ্রুত সচল হলো, এএআইবির প্রাথমিক প্রতিবেদনে তার কারণ জানানো হয়নি।
তদন্তকারীরা হাইড্রোলিক যন্ত্রাংশ, তরল, জ্বালানি ও তেলের নমুনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছেন। দিল্লি ও কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তথ্যও নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এয়ারবাসের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ১৩-১৫ আগস্ট উড়োজাহাজটি পরীক্ষা করেন। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কারণ জানানো হবে।
পাইলটের মাদক পরীক্ষায় প্রশ্ন
দিল্লিতে অবতরণের পর ২পাইলটের উড্ডয়ন-পরবর্তী চিকিৎসা ও মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল ‘নেতিবাচক নয়’ হওয়ায় তাঁর রক্তের নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সহকারী পাইলটের দুটি পরীক্ষাই নেতিবাচক আসে। তবে এর সঙ্গে হাইড্রোলিক ত্রুটির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, প্রাথমিক প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।
এএআইবি পাইলটদের মাদকজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার প্রতিরোধে অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা সুপারিশ করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং ঘটনার পর সব পাইলটের স্বেচ্ছামূলক শতভাগ পরীক্ষা শুরু করেছে।
সাবেক পাইলট ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩টি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কীভাবে এত দ্রুত বিকল হলো, চূড়ান্ত তদন্তে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।










