মাঝ আকাশে যাত্রীর তাণ্ডব , জরুরি অবতরণ


ঢাকাঃ উড়োজাহাজে বসে নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু মাঝ আকাশে যদি পাশের কোনো যাত্রী হঠাৎ ‘অ্যাকশন হিরো’ হয়ে ওঠেন, তাহলে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তারই যেন বাস্তব উদাহরণ ঘটল একটি ফ্লাইটে।
এক যাত্রীর বেপরোয়া আচরণে মাঝ আকাশে তৈরি হলো তুমুল বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবহার করতে হলো জিপ টাই, হাতকড়া—এমনকি ডাক্ট টেপও!
ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঘটেছে এ ঘটনা।
সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ফ্লাইটটি গন্তব্যের পথে থাকা অবস্থায় এক যাত্রী হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি কেবিন ক্রুদের উদ্দেশে চিৎকার শুরু করেন এবং পাশের আসনে বসা এক যাত্রীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ফ্লাইটটি বাল্টিমোরে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া ও রিচার্ড ওলেনিক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ার প্রায় ২ ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই শান্ত পরিবেশ বদলে যায় বিশৃঙ্খলায়।
মেহিয়া বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ছিল অনেকটা ‘আলোর সুইচের’ মতো। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত পরিবেশে শুরু হয় চিৎকার ও হইচই। পেছনে ফিরে তিনি দেখতে পান, ওই যাত্রী পাশের আইল সিটে বসা এক ব্যক্তির গলা চেপে ধরে আক্রমণ করছেন।
বিপদ বুঝে মেহিয়া ও ওলেনিক দ্রুত এগিয়ে যান। এক উড়োজাহাজ কর্মীর কাছ থেকে পাওয়া জিপ টাই ও নমনীয় হাতকড়া ব্যবহার করে তারা ওই যাত্রীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এতেও যেন কাহিনি শেষ হয়নি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে একটি প্রথম শ্রেণির আসনের সঙ্গে আটকে রাখা হয়। আর সেই কাজে ব্যবহার করা হয় ডাক্ট টেপ।
শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি নিরাপদে নিউয়ার্কে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত উড়োজাহাজে ওঠেন এবং ওই যাত্রীকে হেফাজতে নেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হয়।
পরে আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে। যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনায় কেবিন ক্রুদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করা হয় এবং সহযোগিতার জন্য যাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এরপর মেরিল্যান্ড জেলার মার্কিন কৌঁসুলির কার্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উড়োজাহাজে সাধারণত আসনবন্ধনীই যাত্রীদের নিরাপদে ধরে রাখার ব্যবস্থা। কিন্তু এই ফ্লাইটে এক যাত্রীর বেপরোয়া আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত আসনবন্ধনীর সঙ্গে যোগ হলো জিপ টাই, হাতকড়া আর ডাক্ট টেপ। তবে আকাশে এমন ‘অ্যাডভেঞ্চার’ যে কারও ভ্রমণতালিকায় থাকার কথা নয়|










