লোকসানের মুখে চীনের ৩ শীর্ষ এয়ারলাইনস


ঢাকাঃ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, টিকিট বিক্রি কমে যাওয়া ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আর্থিক চাপে পড়েছে চীনের ৩ শীর্ষ উড়োজাহাজ সংস্থা।
এয়ার চায়না, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মুনাফায় বড় ধস নেমেছে। বছরের প্রথম ৯ মাসেও লোকসান গুনেছে তিন কোম্পানি।
২০২৬ সাল শেষেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তাসংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত গ্রীষ্মকাল ভ্রমণের মৌসুম হওয়ায় চীনের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে লাভজনক সময় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক। তবে চলতি বছর এ সময়ে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।
জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, টিকিটের দাম কম থাকা ও টাইফুনের কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় কোম্পানিগুলোর আয় কমেছে।
এয়ার চায়নার নিট মুনাফা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৯২.৬ শতাংশ কমে ২৭ কোটি ৬ লাখ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের নিট মুনাফা ৯৮.২ শতাংশ কমে হয়েছে ৬ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান।
এদিকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৮৪ কোটি ইউয়ান মুনাফা করলেও এবার কোম্পানিটি ৬০ কোটি ৯০ লাখ ইউয়ান লোকসান গুনেছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছে, এয়ার চায়না ও চায়না ইস্টার্ন কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকেই টানা লোকসানে রয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো গত বছর মুনাফায় ফিরেছিল চায়না সাউদার্ন। তবে চলতি বছর ফের লোকসানে পড়তে পারে কোম্পানিটি।
তিনটি এয়ারলাইনসই জানায়, উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
এশিয়া ও ইউরোপের অনেক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তুলনায় চীনা এয়ারলাইনস জ্বালানির দাম ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম মূল্য নির্ধারণ বা হেজিং কম করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এসব সংস্থার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়।










