শুরু হলো দ্বাদশ বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার

ঢাকাঃ ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল পর্যটন মেলা দ্বাদশ বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের। তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। আন্তর্জাতিক এই মেলার আয়োজন করেছে দেশের পর্যটন শিল্পের বাণিজ্য সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সব স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিদেশে বিভিন্ন পর্যটনমেলায় অংশগ্রহণের বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেখানে ভালো জায়গায় স্টল নিতে হবে, সৃজনশীল কর্মতৎপরতা ও প্রচারের মাধ্যমে দেশকে উপস্থাপন করতে হবে। বিভিন্ন মেলায় আমাদের বেসরকারি খাতের অপারেটররা যাতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে সেই ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সারা বিশ্বে পর্যটন শিল্পে সরকারের কাজ পলিসি তৈরি করা আর পর্যটন প্রসারে কাজ করে বেসরকারি খাত। আমরা দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশীজনদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবো। অন-অ্যারাইভাল ভিসা সহ তাদের আর কি কি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তা স্টেকহোল্ডার সভার মাধ্যমে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলংকার হাইকমিশনার ধর্মপাল ওযেরাক্বোডি, নেপালের অ্যাম্বাসেডর ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি, ভিয়েতনামের অ্যাম্বাসেডর নিগুয়েন মান কোয়াং, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও শফিউল আজিম ও এটিজেএফবি’র প্রেসিডেন্ট তানজিম আনোয়ার।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টোয়াবের সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের গভর্নিং বডির সদস্য শিবলুল আজম কোরেশীর সভাপতিত্বে ও পরিচালক (মিডিয়া ও পাবলিকেশন্স) মোহাম্মাদ ইউনূছের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালক (বাণিজ্য ও মেলা) মো আনোয়ার হোসেন।
প্রসঙ্গত, মেলায় দেশি-বিদেশি ৬০টির বেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৫০টি স্টল ও ১৪টি প্যাভিলিয়নে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যটন সংস্থা, বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর, হোটেল, রিসোর্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আর অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো ভারত, নেপাল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও স্বাগতিক বাংলাদেশ।
মেলা চলাকালীন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভিজিটরদের জন্য তাদের সেবা ও পণ্যের ওপর বিশেষ মূল্যছাড় দিচ্ছে। দেশি ও বিদেশি গন্তব্যে এয়ার টিকিট, তারকা হোটেলগুলোতে রুম বুকিং, ভ্রমণ প্যাকেজ ইত্যাদিতেও মূল্যছাড় থাকছে।
এবারের আসরের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি ও তাদের স্ট্রাটেজিক পার্টনার সাইমন হলিডেজ।
মেলায় সাইড লাইন ইভেন্ট হিসেবে থাকছে বি টু বি সেশন , সেমিনার ও রাউন্ড টেবিল ডিসকাশন। এছাড়াও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং দেশের পর্যটন গন্তব্যের উপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হবে।
এবার মেলায় প্রবেশ মূল্য রাখা হয়েছে জনপ্রতি ৩০ টাকা। তবে ছাত্র-ছাত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মেলায় প্রবেশে রয়েছে মূল্যছাড়। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
T










